মাহফিল-মিডিয়ায় বিতর্ক: পর্দার ব্যাপারে যা বললেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:২৯
লাবীব আব্দুল্লাহ

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন, অভিজ্ঞ ফকীহ, বিশিষ্ট ইসলামী অর্থনীতিবিদ' আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী, জামি‘আ ইসলামিয়া দারুল উলূম (আকবর কমপ্লেক্স) মিরপুর-১, ঢাকা এর প্রিন্সিপ্যাল ও আত-তাখাস্সুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা (উচ্চতর ইসলামী আইনশাস্ত্র ও ফাতওয়া) বিভাগের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন

তিনি দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় হাদিস ও ফিকহের দরস দিয়ে থাকেন। সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ফিকহি বিষয়গুলো গভীর পর্যবক্ষেণে সমাধান করেন। মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা ও ওয়াজ-মাহফিলে জনসম্মুখে বিতর্কিত মাসআলা-মাসায়েল আলোচনা নিয়ে কথা হয় 'অনুসন্ধান' এর সাথে। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন, অনুসন্ধানের উপদেষ্টা সম্পাদক লেখক-গবেষক লাবীব আব্দুল্লাহ

অনুসন্ধান: মিডিয়াতে বক্তারা একেকজন যার যার মতো করে দ্বীনি বিষয়ে  একেকরকম কথা বলে যাচ্ছেন, এটা আপনি কিভাবে দেখছেন?

মুফতি দেলওয়ার হোসাইন: সত্যতা, সততা ও আমানত-দিয়ানত ঠিক রেখে মিডিয়াকে যত ব্যবহার করা যায় ততই ভাল। ইসলামের তত উপকার হয়। তবে আফসোসের সাথে বলতে হয়, বর্তমানে অনেকেই যার যার মত করে ইচ্ছে মত লাগামহীন কথাবার্তা বলছেন। এতে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে আমার একটি কথা হল, একদল তরুণ বিজ্ঞ আলেমদের সববিষয়ে ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।তারা মিডিয়াতে, ইউটিউবে সর্ববিষয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করবে।

অনুসন্ধান: কিছুদিন আগে পর্দা বিষয়ক একটি মাসআলা নিয়ে ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চ থেকে শুরু করে সোস্যাল মিডিয়া পর্যন্ত  খুব বিতর্ক হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

মুফতি দেলওয়ার হোসাইন: ইসলামি শরিয়ত মেয়েদের চেহারা খোলা রাখাকে সমর্থন করে না। তাদের চেহারাকে ঢেকে রাখতে হবে।কারণ কুরআনে উল্লেখ রয়েছে 'তোমাদের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করিও না।' সৌন্দর্যের  মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে চেহারা। এটা যদি খোলা রাখা হয় তাহলে এ আয়াতের ওপর আমল হবে কিভাবে?

আবু দাউদ শরীফে আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস এসেছে যেখানে তিনি বলেছেন 'আমরা যখন হজে যেতাম আমাদের চেহারার ওপর একটি কাঠ এমনভাবে বাঁধতাম এর বাইরে দিয়ে আমরা একটা নিকাব ঝুলিয়ে দিতাম। যখন দেখতাম কোনো পুরুষ নেই তখন তুলে রাখতাম যখন কোন পুরুষ আসত তখন ঝুলিয়ে দিতাম।' হজের মৌসুমেও তারা এ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন পর্দার ব্যাপারে। অন্য সময় তো তাহলে খোলা রাখার প্রশ্নই আসে না।

অনুসন্ধান: জনসাধারণের মজলিসগুলোতে মতবিরোধপূর্ণ মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত কিনা?

মুফতি দেলওয়ার হোসাইন: আশরাফ আলী থানভী রহ. এর বক্তব্য হল, ওয়াজ মাহফিলে জটিল মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা না করা।শ্রোতার বিভিন্ন স্তর থাকে। ক্লাসের ছাত্ররা এক ধরনের শ্রোতা। জুমআর মুসল্লিরা এক ধরনের শ্রোতা আর ওয়াজ মাহফিলে যারা আসেন তারা আরেক ধরনের শ্রোতা। ওয়াজ মাহফিলের অধিকাংশ শ্রোতা হল জনসাধারণ। তাদের কাছে জটিল মাসআলা আলোচনা করে কোনো ফায়দা নেই। অনেক শ্রোতা তা ভালভাবে বুঝেন  না। ফলে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হয়। তাই মাহফিলগুলোতে জটিল মাসআলা ও মতনৈক্যপূর্ণ  মাসআলা আলোচনা করা উচিত নয়। এ ব্যাপারে খুব লক্ষ রাখা উচিত।

তবে যদি মাহফিলে কেউ উল্টাপাল্টা মাসআলা দিয়ে দেয় এবং তা ব্যপকভাবে জনসাধারণের সামনে চলে আসে। তখন সঠিকটা আবার জনসাধারণের সামনে না বললে তো হবে না। তখন সঠিকটা জনসাধারণকে জানাতে হবে।

অনুসন্ধান: ওয়াজ মাহফিলগুলো সাধারণত কখন হওয়া ভালো?

মুফতি দেলওয়ার হোসাইন: আমার মতে মাহফিলগুলো দিনে হওয়াই ভালো। রাতে হলে বেশি বিলম্ব করা উচিত নয়। রাত এগারোটা বারোটার মাঝেই শেষ করে দেওয়া উচিত। তা না হলে অনেকের ফজর ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে। অনেকের ঘুমের সমস্যা হয়। অনেক অসুস্থ মানুষের সমস্যা  হয়। ছাত্রদের পড়াশোনা করতেও সমস্যা  হয়। মাহফিল কমিটিকে এগুলো লক্ষ রেখে মাহফিল পরিচালনা করা উচিত।


অনুলিখন: মুজিব রহমান

মন্তব্য লিখুন :