ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমকামিতা

২৭ জুন ২০২০, ১৪:৪৭
জাওয়াদ আহমাদ

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। রান্নাঘর থেকে শুরু করে সংসদ ভবন, ব্যক্তিজীবন থেকে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল সকল জায়গার সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম  বিষয়ের প্রতি ইসলামের রয়েছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা। যা পৃথিবীর আর কোনো ধর্মে পাওয়া সম্ভব না।

একজন মুসলিম হিসেবে সর্বক্ষেত্রে ইসলামের একে দেওয়া ছক বা লিখে দেওয়া বিধানের ওপর চলাটা অতি আবশ্যকীয়। ইসলাম প্রত্যেক বিষয়ের নেগেটিভ পজেটিভ উভয়টাই বলে দিয়েছে। পাশাপাশি এও বলেছে পজেটিভ করলে জান্নাত আর নেগেটিভ করলে জাহান্নাম।

সমকামিতা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই মারাত্মক পর্যায়ের একটি গুনাহ। আমাদের রাসূল সাঃ এর বহু পূর্বে হযরত লূত আঃ নামক একজন নবীর উম্মত ছিল সমকামী। তারা পুরুষে পুরুষে নিজেদের যৌনচাহিদা নিবারণ করত।

আল্লাহ তায়ালার নিকট এটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ ছিল। তিনি তাদের প্রতি এতটাই রাগান্বিত হলেন যে ওই জনপদের উপরিভাগকে পুরোপুরি নিচু করে দিয়েছিলেন এবং তার উপর ভয়ংকর ভাবে ঝামা পাথর বর্ষণ করেছিলেন।

এই ঘটনাগুলো আল্লাহপাক তার প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদ আরাবী সাঃ কে ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি কখনো বা তাদেরকে সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায় বলে সম্বোধন করেছেন। আবার কখনো  তাদেরকে জালেম ও বিশৃঙ্খল জাতি রুপে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি এও বলেছেন, তারা অত্যন্ত নোংরা কাজ করত এবং নিকৃষ্ট প্রকৃতির ফাসিক সম্প্রদায় ছিল। সব থেকে দুঃখের বিষয় হচ্ছে তাদের ব্যাপারে কোনো নবীর সুপারিশও গ্রহণযোগ্য হবেনা বলে কোরআনে কারিমে বর্ণিত হয়েছে।

সমকামীদের ওপর আল্লাহ এবং তার রাসুল সাঃ একত্রে তিনবার লানত তথা অভিশাপ ঘোষণা করেছেন। যা অন্য কোন বিষয়ে করা হয়নি। আল্লাহর হাবিব সাঃ খুবই আশংকা বোধ করতেন যে, না জানি আমার উম্মতের মধ্যেও এই  গুনাহ ব্যাপক হয়ে যায় কিনা!

শিরক ও কুফরের পরে সবথেকে মারাত্মক গুনাহ হচ্ছে সমকামিতা। কেও কেও তো বলেন শিরক কুফরের সমপর্যায়ের এটি। হযরত যুহাইল ইবনু ইযায রহঃ বলেন সমকামী ব্যক্তিকে আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করালেও সে আল্লাহ তায়ালার সামনে অপবিত্র অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে।

রাসুল সাঃ এর বাণী সমূহ হতে এটাও একটি বাণী যে সমকামিতা ও ব্যাভিচারের জন্য দুনিয়াব্যাপি মহামারি ও নতুন নতুন রোগ সৃষ্টি হয়। যার নির্মম ও বাস্তব প্রত্যক্ষদর্শী বর্তমানে পুরো মানব সমাজ। এই বিষয়ে এর বেশি আর কিছু বলছিনা।

সমকামিতার ফলে শারিরিক কী ক্ষতি হতে পারে এই ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ আর্টিকেল রয়েছে। সে বিষয়ে না হয় আমি আর না বললাম। পাঠকেরই দ্বায়িত্ব থাকল জেনে নেওয়ার।

আমি আমার এই লেখাতে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সমকামিতার অবস্থান ও তার নির্মম ভয়াবহতা তুলে ধরার ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়েছি। এত মারাত্মক একটি গুনাহ থেকে মৃত্যুর পূর্বেই তওবা না করলে জাহান্নাম অনিবার্য।

ভালো কাজ যে করে সে যেমন প্রশংসিত তেমনি যারা সমর্থন করেন তারাও নন্দিত। ঠিক সেভাবেই খারাপ কাজ যে করে সে যেমন ঘৃণিত তাকে সমর্থন কারীরাও তেমনই নিন্দিত। তাই বাহ্যিক আবরণ ও খোলসের অন্তরালে যে বা যারা সমকামিতাকে প্রমোট করে তারা কখনই ভালো কেউ হতে পারে না।

মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই খোদা প্রদত্ত প্রক্রিয়ায় রহস্যজনক ভাবে যেমন মানুষের মাঝে যৌন চাহিদার আবেদন রয়েছে ঠিক তেমনিভাবে তা পুরণের সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত পদ্ধতিও রয়েছে। সুতরাং সে পথ ও মত অবলম্বন করাই সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক হবে।

শয়তান জান্নাত থেকে বিতাড়িত হওয়ার  সময় রাব্বে কারিমের দরবারে গোস্তাখী করতে করতে বলেছিল তোমার বান্দাদেরকে আমি জান্নাতি হতে দিব না। সে কথাকে বাস্তবায়ন করতেই মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে রুচি ও অভিপ্রায়গুলো জঘন্যতম করে দিচ্ছে। যার ফলস্বরুপ সমকামিতার মত অরুচিকর বিষয়গুলো অনেকের কাছে ভালো লাগছে অনেকে প্রমোট করেছে। আর জান্তে অজান্তে নিজেদেরকে জাহান্নামি কীটরুপে তৈরি করছে।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালাও সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছেন। ইবলিস যতই আদম সন্তানকে ধোকা দিয়ে গুনাহের পথে নিয়ে আসুক না কেন, মাত্র একবার খালেস দিলে তওবা করলে রাব্বে কারিম সাথে সাথে তাকে মাফ করে দিবেন। সে কথানুযায়ী সমকামিতা যত বড়ই গুনাহ হোকনা কেন আল্লাহ তায়ালার রহমত তার থেকেও বড়। একজন সমকামী যদি খাঁটি দিলে তওবা করে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দিবেন।

ধর্মীয় দিক থেকে কথা বলার কারণে অথবা ধর্মকে টেনে আনার কারণে যাদের চুলকানি শুরু হয়ে গেছে তাদেরকে বলি, ভাই ধর্ম নেই কোথায় বলেন তো? আপনি নাস্তিক হোন বা সেকুলার, অঘোষিতভাবে আপনিও কোন না কোন ধর্মকে সাথে নিয়েই ঘুরে বেড়ান। হতে পারে সেটা নিজের বানানো ধর্ম কিংবা অন্য কারোর। তাহলে একজন মুসলিম হিসেবে কেন ধর্মকে টানব না? অবশ্যই টানব। একশবার টানব।  সকল বিষয়ে ধর্ম নিয়েই ভেবে তারপর পা ফেলব।

মন্তব্য লিখুন :