বিদায়ের ৭ বছর, যেমন ছিলেন শায়খে বালিয়া

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৫
এম এ মান্নান

শায়খে বালিয়া পীরে কামিল আলহাজ্ব হযরত মাওলানা গিয়াছ উদ্দিন আহমদ পাঠান (রহ্.)’র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে দেশ বিদেশে তিনি ফুলপুরের সম্মান বৃদ্ধি করে গেছেন। তিনি শুধু ফুলপুর নয় বরং বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন কৃতি সন্তান ছিলেন।

কুরআন- হাদীসভিত্তিক জীবন গঠনের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ তৈরি করতে আজীবন তার চেষ্টা অব্যাহত ছিল। তিনি দেশ ও দেশের বাইরে বয়ানের মাধ্যমে ফুলপুরের মর্যাদাবৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেছেন। ভন্ড, প্রতারক, মাদক, নারী নির্যাতন, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতিসহ সমাজবিরোধী বর্বর কর্মকান্ডের তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণেও তিনি বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। কিভাবে রাজনীতি করলে দেশের মানুষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি ইসলামও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না সে বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি তার দিক নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বিশেষ করে সারা জীবন কুরআন-হাদীস নিয়ে গবেষণা করেছেন। মহানবী (সা.)’র পথ ও মত অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে আদর্শ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় লড়ে গেছেন। তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ উলামার অভিভাবক ছিলেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত এমনকি বছরের পর বছর দেশ ও সমাজের মানুষের জীবন মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরকালে কিভাবে নাজাত পেতে পারে সে বিষয়ে ফিকির করতেন এই ইসলামিক স্কলার। হাজারো মানুষকে সৎ ও ন্যায়ের পথ দেখিয়ে গেছেন শায়খে বালিয়া (রহ্.)।

ওয়াজ নসীহতের ময়দানে বর্তমানে উলামায়ে কেরামের মাঝে যে বিদ্বেষী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়  শায়খে বালিয়ার বয়ানে এ ধরনের কোন ছাপ খুঁজে পাওয়া যায় না। যা করলে ইসলামের, নিজের, বাপ-মার ও দেশের মানহানি হয় তা থেকে বিরত থাকতে মানুষকে পরামর্শ দিতেন তিনি। যে কাজ করলে দীনের, নিজের ও দেশের সুনাম বৃদ্ধি পায় সেসব কাজের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতেন।

শায়খে বালিয়ার মাধ্যমে শুধু ফুলপুর নয় বরং বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষ নানাভাবে উপকৃত হয়েছেন। তাঁর উন্নত জীবন ও উপকারী কর্মকান্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে অমর করে রাখার লক্ষ্যে সরকারিভাবে সম্মানিত করা উচিৎ। একুশে পদকসহ সরকারি বিভিন্ন পুরস্কার গুণীজনরা পেয়ে থাকেন। শায়খে বালিয়াকেও কোনো ক্যাটাগরিতে রাখা উচিৎ। তাঁর নামে সড়ক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণ ইচ্ছা করলে করা যায়। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে  এলাকাবাসির পক্ষে শায়খে বালিয়ার ছেলে মাওলানা ফরিদ আহমাদ ও নূরুল্লাহ পাঠান হাফিজ্জি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপিসহ সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সনের ২ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শায়খে বালিয়া হযরত মাওলানা গিয়াছ উদ্দিন আহমদ পাঠান ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

ওই বছর ১ ফেব্রুয়ারি জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার ৯৪তম বড় সভা ছিল। এবারের বড়সভা ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি।  মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তে অসুস্থতা নিয়েই মধ্যরাতে বয়ান করেছেন শায়েখ। বয়ানের পর তিনিই খতমে বুখারী করেন ও মুনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর জামিয়ার অফিসে কিছুক্ষণ বসে মুহতামিম মাওলানা আইনুদ্দীন ও তৎকালীন নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ওয়াইজুদ্দীনকে দিক নির্দেশনামূলক নসীহত করেন। তারপর মাদ্রাসা সংলগ্ন বাসায় যান। বাসায় যাওয়ার পর পরই তার অসুস্থতা বেড়ে যায়। পরে দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ভোর পৌনে ৫টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালেমা পড়তে পড়তে শায়খে বালিয়ার ইন্তিকাল হয়।

বড়সভা মঞ্চের মাইকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সভায় আগত শায়খে বালিয়ার ভক্ত ও হাজার হাজার মুসল্লিরা কান্না শুরু করেন। কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ফজর শেষে আখেরি মুনাজাতের পর প্রতি বছর সবাই চলে যেত কিন্তু ওইদিন (২ ফেব্রুয়ারি) কেউ যাননি। আসরের পর ওই বড়সভার মুসল্লীরা শায়খে বালিয়ার জানাজার নামাজ আদায় করে ঘরে ফিরেন। জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে।  

শায়খে বালিয়া (রহ.) সাদা মনের একজন আদর্শ মানুষ ছিলেন। তাকে হারিয়ে ময়মনসিংহের আলেমরা এতীমসম। সবাই তাকে পিতার মত শ্রদ্ধা করতো। যে কোন কাজে কর্মে শায়খে বালিয়া ছিলেন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার উৎস। বিভিন্ন মসজিদ মাদরাসার অনিয়ম, ছাত্র শিক্ষক ও কমিটির লোকদের মধ্যে অমিল, সমাজে লেগে থাকা ঝগড়া বিবাদ ইত্যাদি দূর করতে ডাক পেলেই ছুটে যেতেন তিনি। দ্বন্দ্ব নিরসন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেন।

ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে কেন্দ্র থেকে মিটিং মিছিলের ডাক আসলে শায়খে বালিয়া সিপাহসালারের ভূমিকা পালন করতেন। তিনি ছাড়া যেন সবাই ছিল অচল। চোখের সামনে আজ সবই আছে, নেই শুধু শায়খে বালিয়া। এতে মনে হয় যেন কেউ নেই। ‘মাওতুল আলিমে মাওতুল আলাম’ অর্থাৎ একজন আলিমের মৃত্যু যেন পুরো পৃথিবীর মৃত্যুসম। বাক্যটি বিদগ্ধ ও মুখলিস এই আলিমের ক্ষেত্রে যেন শতভাগ প্রযোজ্য। শায়খে বালিয়ার মধ্যে এক ধরনের অলৌকিক শক্তিশালী চুম্বক ছিল। যা মানুষকে আকর্ষণ করতো, কাছে টানতে পারতো। সদাসর্বদা মানুষ তাকে ঘিরে রাখতো। তিনিও মানুষের উপকারে ঝাপিয়ে পরতেন।

এতদাঞ্চলে এমন কোন মসজিদ মাদরাসা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে দাওয়াত দিলে শায়খে বালিয়া যেতেন না। তিনি সবার ডাকেই সাড়া দিতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাকে রাখা হতো। দেশের অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  মুহতামিম, সদরুল মুহতামিম, শায়খুল হাদীস ও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন  তিনি। প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষকে আস্থাশীল করতে ও আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ বরকত লাভের আশায় তাকে উচ্চ সম্মানী পদ দিয়ে রাখা হতো।

উদার ও সরল মনের অধিকারী এই শায়খে বালিয়াকে ভুল বুঝে অনেকে কষ্ট দিয়েছেন। তার নামে বদনাম ও অপবাদ ছড়িয়েছেন। তার নামে দুর্ণাম রটনা ও গীবৎ করেছেন অনেকে। কিন্তু তিনি কারও গীবৎ করেননি। কারও সাথে মন্দ আচরণ করেননি। দেশে আজ এমন একজন শায়েখের অভাব।

প্রখর রৌদ্রে ক্লান্ত মানুষ একটু প্রশান্তির আশায় যেমন বড় বটবৃক্ষের ছায়ায় আশ্রয় নেয় এদেশের উলামায়ে কেরাম তেমনি বিভিন্ন সমস্যায় পতিত হয়ে আবু বকর (রা.) চরিত্রের এই শায়খে বালিয়ার নিকট আশ্রয় নিতেন। যে কোন বিপদ আপদে তারা তার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতেন। শায়খে বালিয়া (রহ্.) সবাইকে মূল্যায়ণ করতেন। তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ উলামাকে নিয়ে গঠিত ‘ইত্তেফাকুল উলামা’ সংগঠনের মজলিসে শুরার সভাপতি ছিলেন।

শায়খে বালিয়া (রহ.) বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল উলামার আধ্যাত্মিক নেতা ও অভিভাবক ছিলেন। তিনি শুধু  মসজিদ মাদ্রাসা বা ইসলামী জলসার সভাপতি ছিলেন না বরং গ্রাম্য ও সামাজিক দরবারেরও তাকে সভাপতি রাখা হতো। মেম্বার চেয়ারম্যান থেকে নিয়ে এমপি পর্যন্ত সবাই তাকে সমীহ করতেন।  তিনি অত্যন্ত কোমল চরিত্রের মানুষ ছিলেন। তার কাছে সবাই যেতে পারতেন। মনের কথা গুছিয়ে বলতে পারতেন। তিনি সবার কথা শুনতেন। সবাইকে আদর করতেন। মূল্যায়ণ করতেন। এজন্যে যে তার সংস্পর্শে একবার গিয়েছে বা বসেছে তাকেই বলতে শোনা যায় যে, ‘হুজুর আমাকে বেশি ভালবাসতেন।’

শায়খে বালিয়ার প্রিয় উস্তাদ ও পীর নূরুদ্দীন গহরপুরী (রহ্.)’র তত্ত্বাবধানে সিলেটে তিনি হাদীস, তাফ্সীর ও ফিক্হ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। এসব বিষয়ের উপর  গবেষণা শেষ করে ১৯৬০ সনে নিজ পীরের মাদ্রাসা জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়ায় কর্মজীবন শুরু করেন। পরে মুরুব্বীদের আদেশ ও পীরের হুকুমে ১৯৬৮ সনে তিনি মুহাদ্দিস পদে বালিয়া মাদ্রাসায় যোগদান করেন।

১৯৮০ সনের ২৬ আগস্ট তাকে বালিয়া মাদরাসার মুহতামিম নিয়োগ করা হয়। ২০০০ সন পর্যন্ত তিনি বালিয়া মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তাকে বালিয়া মাদরাসার সদরুল মুহতামিম পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। বালিয়া মাদরাসা ছাড়াও তিনি ময়মনসিংহ, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম, শায়খুল হাদীস ও উপদেষ্টা ছিলেন।

জীবনে প্রচুর ছাত্র গঠনের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক লাইনে সিলেটের মাওলানা সাদেক আহমাদ লন্ডনী, জামালপুরের মাওলানা জিল্লুর রহমান, ঈশ্বরগঞ্জের মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান আবুল কালাম, নেত্রকোণার মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সিলেটের মাওলানা নিজামুদ্দীন, সুনামগঞ্জের মাওলানা ইসহাক, দুর্গাপুরের মাওলানা রফিকুল ইসলাম, পূর্বধলার মাওলানা মুজিবুর রহমান, কেন্দুয়ার মাওলানা জাহিরুদ্দীন, ফুলপুরের মাওলানা আজীমুদ্দীন শাহ জামালী ও গফরগাঁওয়ের মাওলানা নছরুতুল্লাহ নামে ১১জন মুরীদকে তিনি খেলাফত দান করেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এমনকি সুদূর লন্ডনেও ওয়াজ নসীহত ও দারসে বুখারীর খেদমত করে গেছেন শায়খে বালিয়া।  

শায়খে বালিয়া কী যে এক বুজুর্গ ছিলেন, তাকে যায় না ভুলা। তার বয়ানে যেন যাদু ছিল। শুনতেই মন চাইতো। তার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা অনেক কারামাত জাহির করেছেন। দুনিয়ায় থাকতে যেভাবে মানুষ সব সময় তাকে ঘিরে রাখতো, কাছে টানতো; ইন্তিকালের  পরও তাকে সবাই কাছে রাখতে চাইছে। কাছে রাখার লক্ষ্যে তাকে নিয়ে টানাটানি হয়। এলাকাবাসী বালিয়া মাদরাসার উত্তরে নির্ধারিত কবরস্থানে তাকে দাফন করতে চেয়েছিল আর তার ছেলেরা চেয়েছিল মাদরাসা সংলগ্ন নিজ বাসার পাশে দাফন করতে। এই দুই জায়গায় দুটি কবর খনন করে প্রত্যেকেই নিজেদের খননকৃত কবরে শায়খে বালিয়ার লাশ দাফন করতে তোলপাড় শুরু করেন।

এক পর্যায়ে দা লাঠি নিয়ে দৌঁড়াদৌড়ি হয়। হাঙ্গামায় জড়িয়ে পড়েন এলাকাবাসি ও শায়খে বালিয়ার ছেলেরা। অবস্থা বেগতিক দেখে কিশোরগঞ্জের সদ্যপ্রয়াত আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ্.) এতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, তোমাদের খনন করা কারো কবরে শায়খে বালিয়ার লাশ দাফন করা হবে না। এ সময় তিনি মাদ্রাসার জামে মসজিদের সামনে তৃতীয় আরেক কবর খনন করে হুজুরকে দাফনের সিদ্ধান্ত দেন। পরে উভয় গ্রুপের নেতারা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিলে পরিস্থিতি প্রশমিত হয়।

শায়খে বালিয়া (রহ.)’র জন্ম ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১১ মার্চে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের পাঠান বাড়িতে। তার পিতা ছিলেন মরহুম তৈয়্যব উদ্দিন পাঠান ও মাতা মরহুমা হাসান বানু বেগম। তিনি গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর চলে যান সিলেটে। সেখানে পীরে কামিল হযরত মাওলানা মরহুম নূরুদ্দীন গহরপুরী (রহ্.)এর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষাদীক্ষার কাজ শেষ করেন ও উস্তাদের মাদরাসাতেই  কর্মজীবন শুরু করেন। সেখান থেকে তাকে জামিয়া আরাবিয়া আশ্রাফুল উলূম বালিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তার বাকি জীবন বালিয়াতেই শেষ হয়।

শায়খে বালিয়ার ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার রূহের মাগফিরাতের লক্ষ্যে প্রত্যেক মসজিদ মাদরাসায়  কুরআন শরীফ খতম করে দোয়া করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক সাক্ষাতকারে ফুলপুর টু বালিয়া রাস্তার সুলতানের মোড় হতে বালিয়া জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে  তার জন্মস্থানের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটিকে ‘মাওলানা গিয়াস উদ্দিন সড়ক’ নামকরণের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান তার ছেলে মাওলানা ফরিদ আহমাদ পাঠান ও নূরুল্লাহ পাঠান হাফিজ্জি।

ব্যক্তিজীবনে শায়খে বালিয়া (রহ) দুই স্ত্রীর মাধ্যমে ৮ পুত্র ও ১৪ কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। মাওলানা ওলীউল্লাহ ও মাওলানা ফরিদ আহমাদ নামে দুই ছেলে ও জিবুন্নাহার, আসমা, নাজমা, সালমা ও হুসনা নামে ৫ মেয়ে জন্ম নেওয়ার পর তার প্রথম স্ত্রী মারা যান।

এরপর ১৯৭০ সনে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। ওই ঘর থেকে নূরুল্লাহ হাফিজ্জি, আতাউল্লাহ হযরতজী, ফয়জুল্লাহ মিয়াজী, ইমদাদুল্লাহ মোল্লাজী, রেজাউল্লাহ নূরুজ্জী ও সানাউল্লাহ শাহজী নামে ৬ ছেলে ও নাসিমা, বিলকিস, শামীমা, বরকতি, রাহমাতি, তুহফা, জান্নাতি, আতিয়া ও নিয়ামাতি নামে ৯ কন্যা সন্তান জন্ম নেন। তাদের মধ্যে জান্নাতি, আতিয়া ও তুহফা নামে তিনজন মারা গেছেন।  ছেলে-মেয়ে ও জামাতারা সবাই ব্যবসা ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। শায়খে বালিয়ার নামে সুলতানের মোড়ে, বাড়িতে ও বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে।  আল্লাহ পাক এসব প্রতিষ্ঠান কবুল করুন ও তাঁকে জান্নাতে আ’লা মাক্বাম দান করুন। আমীন।


লেখক: প্রিন্সিপাল, এক্সিলেন্ট স্কুল এন্ড মাদ্রাসা, ফুলপুর ও খতীব, দিউ বায়তুস সালাম জামে মসজিদ ,কলেজ রোড, ফুলপুর, ময়মনসিংহ

মন্তব্য লিখুন :