'মিম্বরের মান এনেছেন খতিব উবায়দুল হক রহ.'

০৫ মার্চ ২০২০, ১৪:২১
মুখলেসুর রহমান

খতিব উবায়দুল হক রহ. শুধুই খতিব ছিলেন না, ছিলেন খতিবের চেয়েও বেশি কিছু। জাতীয় মসজিদ  বাইতুল মুকাররম প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে উঠেছে তাঁর ছোঁয়া ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বিচরণে। আমার বিবেচনায়, তিনি খতিব হিসেবে মানুষের কাছে যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন; পেয়েছিলেন তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, তা নিঃসন্দেহে  নজিরবিহীন। সকল পর্যায়ের আলেমদের সঙ্গেই ছিলো তাঁর সখ্যতা এবং নিবিড় যোগাযোগ। সবার কাছেই তিনি ছিলেন বরণীয়। যে কোন বিষয়ে ডাক দিলে তাঁর ডাকে সমবেত হতেন সবাই। এ বিষয়ে তাঁর কোন বিকল্প ছিলো না। 

আমার যতদূর মনে পড়ে, সেন্ট্রাল শারী'আহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হুজুরের সঙ্গে আমার পরিচয়ের গভীরতা। তিনি আমৃত্যু প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন আর আমি প্রথমে ডেপুটি সেক্রেটারী জেনারেল এবং পরবর্তীতে সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে তাঁর সাথে কাজ করার বিরল সৌভাগ্য লাভ করি। কালক্রমে তাঁর সাথে আমার ব্যক্তিগত  সম্পর্ক এতটাই গভীর হয় যে, তিনি তার পারিবারিক অনেক বিষয়ে আমার সঙ্গে পরামর্শ করতেন। কখনো সখনো গাড়ির প্রয়োজন হলে এ মহান ব্যক্তিত্ব আমি অধমকে স্বরণ করা মাত্রই গাড়ির ব্যবস্থা করে তাঁর খিদমত করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি অনেকবার। 

একদিন আমি গাড়ি নিয়ে রওয়ানা হয়েছি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে।  বঙ্গভবন অতিক্রম করার সময় হুজুরের কল। সে দিনের জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা হলে বেশ সুবিধা হতো বলে জানালেন। আমি কালবিলম্ব না করে গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে দিলাম হুজুরের খিদমতে। আমি চট্টগ্রামের সফর মুলতবি করে সি এন জি তে বাসায় ফিরলাম। ড্রাইভারকে বলে দিলাম হুজুর যেন বিষয়টি কোনভাবেই বুঝতে না পারেন।

ইন্তেকালের কিছুদিন পূর্বে আমাকে তলব করলেন তাঁর বাসায়। তিনি আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন মাওলানা সাজেদুর রহমান সাহেবের মাদরাসার একটি প্রোগ্রামে। পাশাপাশি সীটে বসে যাচ্ছি আমরা দু'জন। সংসদ ভবন এলাকা অতিক্রমকালে পপকর্ণ বিক্রেতাদের হাঁকডাক শুনে হযরতকে জিজ্ঞেস করলাম পপকর্ণ কিনবো কিনা? হুজুর চুপ থাকলেন। মৌনতা সম্মতির লক্ষন মনে করে দুই প্যাকেট পপকর্ণের অর্ডার করলাম। যেতে যেতে তিনি মজা করে এক প্যাকেট পপকর্ণ খেলেন আরেক প্যাকেট উদরস্ত করলাম আমি। তার সঙ্গে এটাই ছিলো আমার সর্বশেষ সফরের স্মৃতি।


খতিবের জন্য সরকারি বাসভবন মঞ্জুরি

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তখন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁকে অবহিত করা হলো যে, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মুকাররম এর খতিব সাহেব থাকেন ভাড়া বাসায়। সরকারি বাসভবন বরাদ্দ নেই তার জন্য। তাছাড়া জাতীয় মসজিদের খতিবের মতো এত বড় একটা পদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের অধীনে। প্রস্তাব করলাম, জাতীয় মসজিদের খতিবের পদটিকে সাংবিধানিক পদ হিসেবে গণ্য করে এটিকে স্বাধীন স্বত্বার মর্যাদা প্রদানের।

বেগম জিয়া অনেকটা  বিস্মিত হলেন। আদেশ দিলেন তাকে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ দেবার জন্য। মিন্টো রোডে একটা বাড়ি বরাদ্দও দেয়া হলো। খতিব সাহেব বেশ খুশি হলেন। কিন্তু বাধ সাধলেন উনার সম্মানিত সহধর্মিণী। তাঁর যুক্তি হলো যে মন্ত্রী পাড়ায় রিকশা চলে না। সে এলাকায় বাসা হলে আত্মীয় স্বজন আসবেন কি করে?

সবার তো গাড়ি নেই। সুতরাং ওই সরকারি বাসভবনে আর ওঠা হলো না।


ইসলামী অর্থনীতিতে খতিবের ভূমিকা

ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত 'সেন্ট্রাল শারী'আহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ' এর চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়া আরও অনেক ব্যাংকের শারী'আহ  বোর্ডেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকিং এর বিভিন্ন বিষয়ে তিনি আমি অধমের আমার মতামত জানতে চাইতেন।

আমি মনে করি, এটি আমার জীবনের জন্য একটি অনেক বড় পাওনা।

'ইসলামিক রিপাবলিক অফ পাকিস্তান' এর করাচীতে মুফতী, বিচারপতি তাক্বী উসমানী সাহেবের আহবানে ইসলামী ইন্সুরেন্স বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 'দারুল উলুম করাচী' তে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইসলামিক স্কলার এবং ইসলামী অর্থনীতিবিদগণ অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন খতীব সাহেব, মুফতী আব্দুর রহমান সাহেব, মাওলানা কামালুদ্দীন জাফরী সাহেব, মুফতী ইজহারুল ইসলাম সাহেব এবং আমি নগণ্য। 

আমাদের থাকার রুম ছিলো ভিন্ন ভিন্ন। আমি যে রুমটিতে থাকতাম তা ছিল খতীব সাহেবের রুম থেকে কিছুটা দূরে। কিন্তু খতিব সাহেব প্রতিদিন সকালবেলা নাশতার দস্তরখানায় আমাকে ডেকে পাঠাতেন। একদিনও ব্যতিক্রম হয়নি। উনার মতো ব্যক্তিত্বের সাথে এ ক'দিন নাশতার দস্তরখানে হাজির হতে পারা আমার জন্য বড়ই সৌভাগ্যের বিষয় মনে করি। 

ফজরের পরে ঘুমানো আমার অভ্যাস। পাকিস্তান সফরে ফজরের পর ঘুমাতাম না। কারণ একটু পরই তো খতিব সাহেব ডাকবেন নাশতার জন্য।

সিদ্ধান্ত হলো দারুল উলুম করাচিতে শুক্রবারে জুমার খুতবা দিবেন খতিব সাহেব। সব জায়গায় মাইকিং করা হলো। প্রচুর মুসুল্লি উপস্থিত হলেন  জুমার নামাজে। খুতবা শেষ করে যখন জায়নামাজে দাঁড়ালেন, কিছুক্ষণের জন্য হয়তো ভুলেই গেছেন তিনি এখন পাকিস্তানে, বাংলায় বলে ফেললেন, দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করুন।

এ সফরে খতিব সাহেব আমাকে নিয়ে একদিন 'জামিয়াতুর রশিদ' এ গেলেন। সেখানে না গেলে আমি বুঝতেই পারতাম না যে, একটি ক্বওমী মাদ্রাসা কত আধুনিক হতে পারে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, স্থাপত্যশৈলির অনন্য নিদর্শন এ মাদ্রাসায় রয়েছে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, স্যুইমিংপুল, থরে থরে সাজানো ফুলের বাগান, আধুনিক লাইব্রেরি ও মেহমান খানা, সোডিয়াম লাইট আরো কত কী। খতীব সাহেবের সম্মানে যে রাজকীয় মেহমানদারীর এন্তেজাম করেছিলেন জামিয়া কর্তৃপক্ষ তা আজও স্মৃতিতে অম্লান। 

খতীব সাহেবের পরামর্শে একদিন পরিদর্শনে গেলাম "জামিয়া আশরাফিয়া লাহোর" এ। এ মাদ্রাসায় অবস্থিত 'আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট' আমাকে বিমোহিত করেছে। তাদের দূরদর্শী চিন্তা চেতনায় আমি রীতিমতো বিমোহিত হয়েছি।


খতিব সাহেবের ব্যক্তিত্ব

খতিব সাহেব ছিলেন খুবই  ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একজন মানুষ। কারো চতোষামোদি করতেন না কিংবা কাউকে ভয় করে কথা বলতেন না। 

২০০৫ সালে সারাদেশে যখন সিরিজ বোমা হামলা ঘটলো, তখন সরকার এবং প্রশাসনযন্ত্রের অনেকেই  কওমি মাদরাসাগুলোর ওপর দোষ চাপাচ্ছিলো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শ্যেনদৃষ্টিতো ছিলোই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন  যখন তখন বিভিন্ন ক্বওমী মাদরাসায় ঢুকে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো শুরু করলো। এতে একদিকে যেমন ক্বওমী মাদ্রাসার প্রতি জনসাধারণের ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছিলো, অন্যদিকে সরকারের প্রতি আলেম উলামাদের মধ্যে তৈরী হচ্ছিল ঘৃণা এবং সরকার বিরোধী মনোভাব। 

তখন সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে বুঝানো গেল যে, কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ ছাড়া নিছক অনুমানের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর প্রভাব ডেকে আনবে। 

সিদ্ধান্ত হলো শীর্ষস্থানীয় আলিমদের সাথে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল আলোচনায় বসবেন। আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো তৎকালীন হোটেল শেরাটনে। বাংলাদেশের বড় বড় আলেমগন অংশ নিলেন সে অনুষ্ঠানে। উপস্থিত হলেন ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভূইয়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সহ বেশ ক'জন মন্ত্রী এবং সরকারী উর্ধতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

বৈঠকে কোনরূপ তথ্য প্রমাণ ছাড়া নিছক সন্দেহের বশবর্তী হয়ে যখন তখন  মাদ্রাসায় অভিযানের নামে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য খতীব সাহেব  সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন, প্রতিবাদ জানিয়ে এসব অপরিনামদর্শী পদক্ষেপ দ্রুত বন্ধ করতে বললেন। মন্ত্রীদের ধমকাতেও ছাড়লেন না। মন্ত্রীরা খতীবের পরামর্শ, সমালোচনা নীরবে হজম করলেন। সরকারের পক্ষে মাননীয় মন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভূইয়া সমাপনী  বক্তব্যে সরকারী সেসব সিদ্ধান্তের ভুল স্বীকার করে নিলেন। 

তিনি বললেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োজিত সকলেই যে আমাদের পক্ষের এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। এমন কিছু লোক সরকারের ভিতরেই বিদ্যমান রয়েছে যারা বিভিন্ন বিতর্কিত কাজের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালায়। এ শ্রেণীর মানুষের কর্মকাণ্ডে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে উলামায়ে কেরামকে তিনি অনুরোধ করেন এবং এদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সে সভায় এ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, নির্ভরযোগ্য কোন তথ্যের ভিত্তিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী  যদি কোন মাদ্রাসা পরিদর্শন করতে চায় তাহলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার মুহতামিম কে সাথে নিয়েই তারা তাদের কার্য সম্পাদন করবেন এবং সেক্ষেত্রে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন। 

কাছাকাছি সময়ে দেশের আপামর জনসাধারণকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এর কুফল ও ভয়াবহতা সম্পর্কে  ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অবহিত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে  খতিব সাহেবের বিশেষ বিবৃতি প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলাম।

দেশের তরুন ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে গোঁড়ামি, চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। উক্ত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করি ঢাকাস্থ উসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। 

উক্ত মিলনায়তনেই আয়োজন করি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ঐতিহাসিক ওলামা ও মাশায়েখ সম্মেলনের। খতীব সাহেবের নেতৃত্বে এবং তাঁরই সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম এবং মাশায়েখে এজাম অংশ গ্রহণ করেন। 

এ সম্মেলন থেকেই সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ঐতিহাসিক ঢাকা ঘোষণা প্রদান করা হয়।

এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য যাদের নাম মনে পড়ছে তাদের অন্যতম হলেন যথাক্রমে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতী আব্দুর রহমান, মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, চরমোনাইর পীর মাওলানা ফজলুল করিম, সারসীনার পীর মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ, দারুল মা'আরিফ এর মহাপরিচালক মাওলানা সুলতান জওক নদভী, পটিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হালিম বুখারী, প্রখ্যাত মুফাসসিরে ক্বুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, বাইতুশশরফ এর পীর মাওলানা শাহ কুতুবউদ্দিন, জিরি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, নানুপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জমিরউদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান খান, জামিয়া এমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের মুহতামিম মাওলানা আনোয়ার শাহ, দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, গওহরডাঙা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমীন সহ অর্ধসহস্রাধিক বরেন্য আলিম।

খতিব সাহেব এ সম্মেলনে তাশরীফ রাখতে আল্লামা শাহ আহমদ শফি সাহেবকে বড় একটি চিঠি লিখলেন। চিঠিটি সরাসরি হযরতের কাছে পৌঁছাতে খতীব সাহেবের পক্ষ থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পাঠানো হয় মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশওয়ারি সাহেবকে। তিনি অসুস্থতার জন্য হাজির হতে না পারলেও লিখিত বক্তব্য প্রেরণ করেন, যা সম্মেলনে পাঠ করা হয়।

সকল মহলের ওলামা মাশায়েখদের সাথে খতীব সাহেবের গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই তাঁর ডাকে হাজির হয়ে এক মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ঐতিহাসিক ঢাকা ঘোষণা প্রদান সম্ভব হয়েছে। 

ওয়ান  ইলিভেনের পর 'দৈনিক প্রথম আলো' রাসূল সা.কে কটূক্তি করে একটি কার্টুন ছাপে। দেশজুড়ে তখন ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। সারাদেশের মানুষ পত্রিকাটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।   অবস্থা বেগতিক দেখে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বাঘা বাঘা সম্পাদকদের নিয়ে বাইতুল মোকাররম হাজির হন খতিব সাহেবের কাছে ক্ষমা চাইতে। অনেক অনুনয় বিনয়, কাকুতি মিনতির পর খতিব সাহেব তাদেরকে তাওবা পড়ান এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যবস্থা করেন। সকল প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংবাদ প্রচারিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সে দফায় প্রথম আলো গণরোষ থেকে বেঁচে যায়।

খতিব সাহেব যখন ইন্তেকাল করেন আমি তখন আমি নিজ এলাকা শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানায়। রাত আনুমানিক ১১ঃ০০ টার দিকে আমাকে খতীব সাহেবের মৃত্যুসংবাদ  জানান মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ.। তিনি তখন ময়মনসিংহে তাঁর শ্বশুর বাড়িতে। মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভিও বাপের সাথে নানা বাড়িতে ছিলেন। গভীর রাতে নিজেই  গাড়ি নিয়ে রওয়ানা হলাম।  আতাউর রহমান খান সাহেব বললেন, আমাদেরকেও নিয়ে যান সঙ্গে। উনাদেরকে গাড়ীতে উঠালাম ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাসজিদ থেকে। আমি, আতাউর রহমান খান সাহেব এবং উবায়দুর রহমান খান নদভী একসঙ্গে এসে জানাজায় শরিক হই। 

আমি সামান্য একজন মানুষ। খতীব  মাওলানা উবায়দুল হক সাহেব, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেব, ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান রহ. - এর মতো কিছু মহান ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শ পেয়েছি। এ আমার  সৌভাগ্য, আমার প্রতিপালকের মহান দান। তাদের স্পর্শ সুবাসে আমি আজও মোহিত হই, পথ চলি।

মন্তব্য লিখুন :