নিউইয়র্কে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা, লাশের বন্যা বইতে পারে!

২৫ মার্চ ২০২০, ১২:৩৮
অনুসন্ধান ডেস্ক

নিউইয়র্কে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ বুলেট ট্রেনের গতিতে ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে রাজ্যটিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন গভর্নর  অ্যান্ড্রু কুওমো।

নিউইয়র্কে করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে কুওমো মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ও দ্রুত ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস।’ খবর বিবিসি’র।

মঙ্গলবার পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নিউইয়র্কে ২৫ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্তত ২১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীন, ইতালির পরেই করোনায় বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে, ইউরোপের পর করোনাভাইরাসের বিস্তারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ডব্লিউএইচও মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে দেখছি। এ থেকে আশঙ্কা করা যায় যুক্তরাষ্ট্র করোনা বিস্তারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

ইতিমধ্যে দেশটির প্রতিটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। প্রতিক্ষণে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে দেশটিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৮৬৭ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউিএইচও) মঙ্গলবার জানিয়েছে, চীন বা ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রেও করোনাভাইরাস মহামারির কেন্দ্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউইয়র্ক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো বলেন, ‘আমাদের এই মুহূর্তে ফেডারেল সহায়তা প্রয়োজন।’

সংকট মোকাবিলার জন্য ফেডারাল সরকার পর্যাপ্ত জীবন রক্ষার সরঞ্জামের কোথাও প্রেরণ করছে না অভিযোগ করে ডেমোক্র্যাট নেতা কুওমো বলেন, ‘আজ যা নিউইয়র্কে ঘটছে কাল তা ক্যালিফোর্নিয়া বা ইলিনইসে ঘটতে পারে, এটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯০১ জনে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৩২ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৯ জন চিকিৎসাধীন এবং ১৩ হাজার ৯৫ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

এছাড়া করোনাভাইরাস আক্রান্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩ জনের মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ১০২ জন (৮৫ শতাংশ) সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ১৮ হাজার ৯০১ জন (১৫ শতাংশ) রোগী মারা গেছেন।

মন্তব্য লিখুন :