নওগাঁয় বালুমহাল ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ, হামলা-মারপিট

৩০ মে ২০২০, ২১:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর বালুমহালটি ২য় দরদাতা স্থানীয় এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদারের এপিএস সাঈদ হাসানকে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সরকার প্রায় ২২লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

শনিবার শহরের ফুড প্যালেস হোটেলে সর্বোচ্চ ১ম দরদাতা মাসুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন। তিনি ওই ইজারা বাতিল করে বালুমহালটি সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষ পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মাসুদুর রহমানের উপর হামলা চালিয়ে তাকে বেধরক মারপিট করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কিমিটির সহ-সভাপতি আপেল মাহমুদ, যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা হাসান মাহমুদ, রিপন বিশ্বাস ও শ্রমীক নেতা সাজু আহমেদ প্রমুখ।

ভূক্তভোগী মাসুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী রেজাউল করিম ও দ্বিতীয় দরদাতার সাথে যোগসাজস করে আমার সিডিউলে ঘসা-মাজা হয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে কৌশলে জেল হাজতে পাঠিয়ে ইজারা দানের কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় দরদাতাকে ওই বালুমহাল ইজারা প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, আমার সিডিউলে কোন টেম্পারিং করা না হলেও তারা কথিত টেম্পারিং এর অভিযোগ উত্থাপন করে। জলমহাল টেন্ডারে তিনটি সিডিউল জমা পড়ে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা মাসুদুর রহমানের মেসার্স এম আর জে ইন্টারপ্রাইজ- ১ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ৫৭১ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা সাইদ হাসান ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৫শ টাকা ও তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা মোয়াজ্জেম হোসেন ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

মাসুদুর রহমান বলেন, আমার সিডিউলে কোন ঘষা-মাঝা বা টেম্পারিং করা হয়নি। এতে  অফিসের কেউ যোগসাজস করে সিডিউল টেম্পারিং করে থাকতে পারে। কারণ টেন্ডার সিডিউল ওপেনিং এর দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা উপস্থিত থাকলেও তিনি ওই দিন সিডিউল টেম্পারিং এর কোন অভিযোগ উত্থাপন করেননি। এছাড়া টেন্ডারের সিডিউল মূল্যায়ন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার কিন্তু এক্ষেত্রে টেন্ডার ওপেনিং এর একদিন পর টেন্ডারে অংশগ্রহনকারীদের অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়টিও নিয়ে রহস্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষ পর্যায়ে সাঈদ হাসানের লোকজন অতর্কিত তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে বেদম মারপিট করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশিদ জানান, মাসুদুর রহমানের সিডিউলে জালিয়াতি ধরা পড়েছে এবং তা ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কর্তৃক প্রমাণিত হওয়ার পর তার দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। আর সরকার নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ দরদাতা থাকায় তাকে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম বা যোগসাজসের কোন সুযোগ নেই।

মন্তব্য লিখুন :