‘প্রতিদিন নামাজে বসে প্রধানমন্ত্রী ও ইউএনওর জন্য দোয়া করছি’

২৩ জুলাই ২০২০, ১৯:৩৭
মো. রুহুল আমীন, বিশেষ প্রতিনিধি ও সোহেল আরমান, আত্রাই প্রতিনিধি
ঘর পাওয়া এক নারী -অনুসন্ধান

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৮টি পরিবার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া টিনের ঘর। দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা এসব পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আশ্রয়ণ অধিকারের নতুন ঘর পেয়ে এখন তারা মহাখুশি। তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় হতদরিদ্র-অসহায় গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইউএনওর তত্তাবধানে উপজেলায় ২৮টি টিনের বেড়া টিনের ছাউনি পাকা মেঝের গৃহ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে চৌচালা টিনের ছাউনির একটি ঘর, যার দৈঘ্য ১৬ ফুট এবং প্রস্থ ১০.৬ ফুট। প্রতিটি ঘরে রয়েছে একটি করে প্লেনসিটের দরজা ও দুটি করে জানালা।  ঘরের একপাশে টয়লেট। এতে বরাদ্দ ধরা হয় ২৮ লাখ টাকা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হতদরিদ্র এসব মানুষ অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রধানমন্ত্রীর এ ব্যতিক্রম উদ্যোগ তাদের জন্য যেন আশার আলো জাগিয়েছে। 

পাঁচুপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী মোছা. ছামিনা জানান, দুই মেয়ে মারা যাবার পর ১০ মাসের ছেলে থাকতে স্বামী তালাক দেয়। সেই থেকে রেল লাইনের ধারে খুপড়ি ঘর করে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছি। ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরে পানি পড়ত। কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন খেয়ে না খেয়ে পাকা বাড়িতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি।

মনিয়ারী ইউনিয়নের নওদুলী গ্রামের মোছাঃ ময়রম ও রিক্তারুন বলেন, ‘আমরা খুবই গরিব। আমি সন্তানকে নিয়ে অন্যের জমিতে অনেক কষ্ট করে বসবাস করতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারিভাবে ঘর প্রদান করছেন এ খবর পেয়ে আমি উপজেলা নির্বাহীনকর্মকর্তা স্যারের সাথে দেখা করে একটি ঘরের জন্য আবেদন করি। তিনি নিজে আমার বাড়িতে এসে আমার করুণ দশা দেখে আমাকে ঘর নির্মাণ করে দেন। আমি কোনদিন ভাবতেও পারিনি সন্তান নিয়ে নিজের বাড়িতে থাকব। আমি প্রতিদিন নামাজে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জন্য দোয়া করছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নভেন্দু নারায়ণ চৌধুরী  বলেন, ‘উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৮ জন উপকারভোগীর ঘর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। প্রতি উপকারভোগীর জন্য ১টি করে রুম (থাকার ঘর),একটি করে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ৮টি ইউনিয়নের অসহায় দরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্ত, পুনর্বাসিত ভিক্ষুক এবং যার জমি আছে ঘর নেই এমন মানুষকে শনাক্ত করে এসব ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন ‘এই প্রকল্পটির প্রতি আমাদের বিশেষ নজরদারি ছিল। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িগুলো তৈরি করে তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :