এবার নোয়াখালীতে কলাবাগানের মতো ঘটনা, প্রেমিক আটক

১৯ মার্চ ২০২১, ২১:৪৩
অনুসন্ধান ডেস্ক

নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় প্রেমিকাকে দেখা করার কথা বলে মোবাইল ফোনে মেসে ডেকে এনে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

নিহতের নাম হাসিনা আক্তার (১৬)। এ ঘটনায় পুলিশ প্রেমিক রায়হানকে (১৯) আটক করেছে। 

শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লক্ষীনারায়পুর মহল্লার আমেরিকান বাবুলের বাড়ির একটি মেছে এই ঘটনা ঘটে। মেয়েটি একটি মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 

আটক রায়হান নোয়াখালী ডি সি অফিস সংলগ্ন কোর্ট মসজিদ মার্কেটের ফাস্ট ফুড দোকান চাপ ঘরের কর্মচারি ও বেগমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ খানপুর গ্রামের আবদুল মোতালেবের ছেলে। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 

নিহত ছাত্রীর পরিবারের দাবি, রিমুকে ধর্ষণ শেষে রায়হান ও তার বন্ধু সোলাইমান হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

সুধারাম মডেল থানা পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার চরমটুয়া গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে হাসিনা আক্তারের সঙ্গে রায়হানের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ওই সর্ম্পকের জের ধরে রায়হান হাসিনা আক্তারকে শুক্রবার সকালে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য লক্ষীনারায়নপুর আমেরিকান বাবুলের বাড়ির একটি মেসে নিয়ে যায়। সেখানে রায়হান তাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করেন। এতে মেয়েটি অতিরিক্তি রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে রায়হান ও তার বন্ধুরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমা সুলতানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় হাসপাতাল কর্তপক্ষ রায়হানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। 

সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, নিহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে রায়হানের তিন বছরের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ওই সম্পর্কের জের ধরে ছাত্রীটির সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন রায়হান। শুক্রবার সকালে রায়হান মেয়েটিকে তার মেসে ডেকে আনলে

ছাত্রীটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এই নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে রায়হান মেয়েটিকে মারধর করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি রাগে ক্ষোভে মেসের একটি কক্ষে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে রায়হান। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত না। এই ঘটনায় আটক প্রেমিক রায়হানকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

নিহত রিমুর বড় বোন নাজমুন নাহার বলেন, রায়হান তার বোনকে মেসে ডেকে এনে ধর্ষণ করে বন্ধুরা মিলে হত্যা করেছে। তিনি তার বোনের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেছেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত জহির জানান, বেলা ১টা ২৫ মিনিটের দিকে হাসিন আক্তার রিমু নামের এক তরুণীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈমা সুলতানার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে হাসপাতালের আর এম ও ডা. সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। আর এম ওর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

সুধারাম মডেল থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীটি কিভাবে মারা গেল তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর বলা যাবে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রেমের সর্ম্পকের টানে ছাত্রীটি তার প্রেমিকের মেসে দেখা করতে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে বাক বিতণ্ডার জের ধরে মেয়েটি খুন হয়ে থাকতে পারে। তবে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। আটক রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

উল্লেখ্য, বন্ধু দীহানের ডাকে সাড়া দিয়ে গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে কলাবাগান এলাকায় যায় আনুশকা নামে এক ছাত্রী। এরপর দিহান তাকে কলাবাগানের ডলফিন গলির বাসায় নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, বাসা খালি থাকার সুযোগ নিয়ে আনুশকার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে জড়ান দিহান। ওই বাসাতেই আনুশকা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অচেতন হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় দীহান তাকে নিয়ে যান ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান- হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দিহানকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তার বাবা।

মন্তব্য লিখুন :