সমকামিতা ও টেন মিনিট স্কুল

২৬ জুন ২০২০, ০৭:৫৮
জাওয়াদ আহমাদ

একজন পুরুষের দ্বারা আরেকজন পুরুষ নিজের যৌন চাহিদা মেটাবে। একে অপরে আলিঙ্গন করে চুম্বন করত যৌন স্বাদ অস্বাদন করবে। করবে আরো কত্ত কিছু!

ছিহ! এত অরুচিকর কথা বলতে পারছেন জাওয়াদ ভাই? ঘেন্নাতে তো বমি চলে আসছে!

তাই? বমি আসছে? সত্যি বলছেন তো? ঠিক আছে!  বমিটা একটু ধরে রাখেন দাদা । দুটো কথা বলে নিই। তারপর নাহয় আপনিই ঠিক করবেন বমিটা ফেলে দিবেন না গিলে খাবেন!

একজন পুরুষ কর্তৃক আরেকজন পুরুষের যৌন ক্ষুধা নিবারণ,আমার জানা ও বোঝা যদি ভুল না হয় তবে একেই বলে সমকামিতা। সমকামিতার পরিচয় এজন্যই বললাম যে অনেক ভাই ব্রাদার সমকামিতা শব্দের সাথে অপরিচিত বা পরিচিত হলেও এর অর্থ বোঝেন না।

টেন মিনিট স্কুল সম্পর্কে জানেনা বা ধারনা রাখেনা এমন তরুণ অজ পাড়া গাঁয়েও খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে৷  টেন মিনিটের কর্ণধার সহ ট্রেইনার বা টিচাররা কত জনের আইডল হয়ে বসে আছে সেটা আর বলার দরকার মনে করছিনা।

শিক্ষা বিষয়ক কারিকুলাম নিয়ে তাদের কার্যক্রম প্রশংসার উপযুক্ত। এমন প্রতিষ্ঠান থেকে সু শিক্ষা ও সুস্থ সভ্যতার বিকাশ কামনা করা অহেতুক নয়। তবে দুঃখ তখন লাগে যখন জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসাকে পুঁজি করে নোংরামি, ভ্রষ্টামি ও বিকৃত সভ্যতাকে গেলানোর অপচেষ্টা করা হয় সুচতুর ও সুকৌশলে। (আসলে এখানে কু ব্যবহার করাটাই মনে হয় ভালো)।

অল্প কিছুদিনের ঘটনা। টেন মিনিট স্কুলের একজন কর্মী বা টিচার তিনি সমকামিতা কে প্রমোট করে পোস্ট করেছেন নিজের ফেসবুক পেজ থেকে। সমকামিতা তার কাছে পছন্দনীয়। কথাটা অনেকে বিশ্বাস করতে চাইবে না। বা বিশ্বাস করলেও একগাদা খোঁড়া যুক্তিনিয়ে হাজির হবে তর্কবাগীশ রুপে।

যাকে বা যাদেরকে হাজার হাজার স্টুডেন্ট ফলো করে তাদের মানসিকতা, রুচি, অভিপ্রায়গুলো যে এত জঘন্য ও ঘৃণ্য হতে পারে তা ভাবতেও গায়ে কাটা দিচ্ছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমকামিতার অনেক মারাত্মক ক্ষতি থাকলেও সেটা একটু পরে আলোচনা করি। তা না হলে একশ্রেণীর সুশিল বেশধারী মুখোশ পরিহিত ভাই বেরাদার দাত খোঁচাতে খোঁচাতে এগিয়ে এসে বলবে " সব জায়গায় ধর্ম না টানলে হয়না"।

সমকামিতা প্রথমত অসুস্থ রুচির সর্বনিকৃষ্ট পর্যায়ে পৌছে যাওয়া জঘন্য ও বিকৃত রুপ। সুস্থ মস্তিষ্ক কখনোই এটাকে মেনে নিতে পারেনা। দ্বিতীয়ত সাস্থ্য বিজ্ঞানীদের গবেষনা মতে সমকামিতা বা পায়ুপথে সঙ্গমের ফলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের ঝুকি কয়েকগুন বেড়ে।তাছাড়া এতে করে জন জীবন কতটা দূর্বিষহ হতে পারে সেটাও একটু ভাবতে হবে। 

টেন মিনিট স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ও সভ্যতার ব্যানারে বিজাতীয় কুসাংস্কৃতির প্রসার করে কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর হচ্ছে সেটা  না ভাবলে জন-সাধারণ কিযে হুমকির মুখে পড়তে পারে সচেতন ব্যক্তিমাত্রই সেটা বুঝতে পারবেন। সে ভাবনা থেকেই এই বিষয়ে আলোকপাত করা!

এখানে কোনভাবেই টেন মিনিট স্কুল এই দায় এড়াতে পারেনা। কারণ সে ব্যক্তি তাদেরই একজন সদস্য এবং তাদের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজে পরিচিত।

এবার বলি ধর্মীয় দিক থেকে সমকামিতার কথা। সমকামিতা ধর্মীয় দিক থেকে অনেক মারাত্মক একটি গুনাহ। হযরত লূত আঃ এর কওম এইজন্য চরম আজাবে নিপতিত হয়েছে। আমাদের রাসূল সাঃ খুব কঠিন ভাবে এর বিরোধিতা করেছেন।

সব যায়গায় ধর্ম কর্ম কেন টানতে হয় সেটা আপনার মাথার গোবর বের না করলে বুঝবেন না। গোবর বের করাতো সম্ভব না! তাই ধর্মীয় দিক থেকে আগে না বলে ধর্মের বাইরের দিকটা আগে বলেছি।

টেন মিনিট স্কুলের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন বিরোধ নেই। তবে তাদের ইদানিং বেশ কিছু কার্যক্রম ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকে দৃষ্টিকটু পরিলক্ষিত হচ্ছে।  নিজের ভাইবোন, বন্ধু,বান্ধব,আত্মীয়, স্বজন অনেকেই টেন মিনিটের সাথে সম্পৃক্ত। তাই তাদের অসারতার ব্যাপারে আওয়াজ না তুললে নিজেকে অপরাধী মনে হবে।

আমি একথা বলব না টেন মিনিটকে ডিজলাইক করেন কিংবা তাদের ভিডিও দেখেন না। আমি শুধু এটা বলব যেটা খারাপ সেটাকে কোন রকম পক্ষপাতিত্ব না করে খারাপ বলে ঘোষণা দেন। স্ব স্ব স্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আপনার চুপ থাকা জাতীয় হুমকির কারণ হতে পারে। আইমান সাদিক ভাইয়ের ভাষাতেই বলছি "লোকে কি বলবে" এই ভয়ে চুপ থেকে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবেন না। আইমান সাদিক ভাই বা টেন মিনিট স্কুল অনেক পপুলার তাই বলে তাদের সব কিছু সঠিক হবে তা কিন্তু নয়।

ইউরোপ কান্ট্রিতে এসব বৈধ এটা কিন্তু সভ্যতার দলীল হতে পারেনা। সেটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। সমকামিতাকে কোন দেশ বা কোন প্রতিষ্ঠান ভালো বলছে সেটা আমাদের দেখার নয়। আইমান সাদিক সহ অন্যান্যদের কাদের সাথে লিংক আছে সেটাও বলার ইচ্ছা নাই। আমাদের কথা হচ্ছে আপনাদের ব্যক্তিগত খাহেশ নিজেদের কাছে রাখুন। কোমলমতি ছাত্রদের সামনে প্রমোট করে তাদেরকে বিপথে টানার অপচেষ্টা করবেননা।

টেন মিনিট স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি এই দায় নিজেদের কাঁধে না নিতে চান তবে অবিলম্বে সমকামিতার ব্যাপারে আপনাদের অবস্থান সুস্পস্ট করুন৷ পাশাপাশি সেই শিক্ষককে টেন মিনিটের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যহতি দিয়ে কোমলমতি ছাত্রদের অনিবার্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন।

আপনাদের মত শিক্ষাবিদরাই সুশিলতার দোহায় দিয়ে সমাজে হালাল ও উপকারী বন্ধন বিবাহ প্রথাকে অনেক কঠিন করে তুলেছেন। যৌন সুরসুরি দেয়া বস্তুর ব্যাপক ছড়াছড়ি অথচ হালাল ও সুস্থ ভাবে তা মেটানোর প্রতিকূল পরিবেশ আপনারাই তৈরী করেছেন। একের পরে এক ধর্ষণ হয়ে সে ফল ভোগ করছে হিরামণির মত  অবোলা নারীরা। নতুন করে সমকামিতার আগুন জ্বালিয়ে এই সমাজকে আর নষ্ট করেন না।

আমার এ লেখা দেখে রে, র,  মার, মার, কাট কাট, বলে তেড়ে আসার লোক যে অনেক আছে সেটা জানার পরেও শুধুমাত্র নৈতিক ও নববী দ্বায়িত্ববোধের স্বার্থে এই বিষয়ে কলম ধরেছি। ভুল ভ্রান্তি দৃষ্টিগোচর হলে অবশ্যই অবগত করবেন। শুধরে নিব ইনশাআল্লাহ।  অহেতুক গালিগালাজ কাম্য নয়।

ও হ্যা! যে দাদাদের বমি আসছিল তাদের বলছি এখন ডিসাইড করেন। বমি গিলে খাবেন না ফেলে দিবেন। সমকামিতাকে যদি ঘৃণ্য ও গুনাহ মনে করে থাকেন তাহলে অবশ্যই ফেলে দেন। আর পছন্দ করে থাকলে ভাবব বমি অর্থাৎ পেটের মধ্য থেকে আসা দুর্গন্ধযুক্ত পঁচা খাদ্য গিলে খাচ্ছেন।

লেখক: জাওয়াদ আহমাদ, রাাজশাহী

মন্তব্য লিখুন :