করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

২৯ জুন ২০২০, ১৯:২৭
অনুসন্ধান ডেস্ক

সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ফির হার নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

পরিপত্র অনুসারে, বুথ থেকে নমুনা সংগ্রহ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা করে এবং বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করলে ৫০০ টাকা করে দিতে হবে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পরিপত্রটি সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশ করা হলেও সেখানে ২৮জুন তারিখ উল্লেখ রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বলছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তে আরটিপিসিআর টেস্ট বিনামূল্যে করা হতো। ফলে কোনো উপসর্গ ছাড়াই অধিকাংশ মানুষ এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ গ্রহণ করেছেন।

‘এমতাবস্থায় কোভিড-১৯ এর নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিমিত্তে অপ্রয়োজনীয় কোভিড-১৯ টেস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে পরীক্ষার জন্য এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।’

পরীক্ষার ফি বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে উল্লেখ করে পরিপত্রে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা এবং মুক্তিযোদ্ধা, দুঃস্থ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত আগের সরকারি আদেশ বহাল থাকবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আরও ৪৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া আরও ৪০১৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৫টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩১টি। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে আগের নমুনাসহ ১৭ হাজার ৮৩৭টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০১৪ জনসহ দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন। নতুন করে আরও ৪৫ জনের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮৩ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২.৫০ শতাংশ। আর মোট পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৮. ৯৬ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৬ এবং নারী ৯ জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩০ জন এবং বাড়িতে ১৪ জন। মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন একজন। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন সর্বোচ্চ ২২ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ জন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে।

এদিকে, করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ২০৫৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। সুস্থতার হার ৪০.৭৫ শতাংশ।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন :