নওগাঁয় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছে যুবলীগের ১০০ কমিটি

০১ মে ২০২১, ০০:০৮
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ

দেশে চলছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন। সরকার ঘোষিত লকডাউনে নওগাঁর অনেক অসহায় ও দরিদ্র কৃষক শ্রমিক সংকটের কারণে স্বপ্নের পাকা ধান কাটতে পারছেন না। এই দিশেহারা কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা ও উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা। করোনা পরিস্থিতিতে ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়া কৃষকদের খেতের ধান কাটা, ধান বাড়ি নেওয়া ও মাড়াই করে দিচ্ছেন। 

সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক না পাওয়া অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিতে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ১০০টি কমিটি গঠন করে দিয়েছে নওগাঁ জেলা যুবলীগ। কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনই বিপাকে পড়া চাষিদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছেন। এই কার্যক্রমে উপকৃত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা যে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন সে কারণে খুশি এলাকাবাসী ও কৃষকেরা। আমরা যেখান থেকে খবর পাচ্ছি সেখানে গিয়ে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে মাড়াই করে দিয়ে আসছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাকে পালন করার চেস্টা করছি।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার দিনভর সদর উপজেলার টিএন্ডটি পাড়া মাঠে দরিদ্র চাষি হারুনুর রশীদের দেড় বিঘা জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। মাঠে গিয়ে দেখা যায়, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায়ের নেতৃত্বে যুবলীগের ২০-২৫জন কর্মী একটি খেতের ধান কাটছেন। ধান কেটে তা ওই কৃষকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মাড়াই করে দিচ্ছেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে মানিক রায়, আরিফ দেওয়ান, শুভ, সাজ্জাদ, এরশাদ, হৃদয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

মাঠেই কথা হয় কৃষক হারুনুর রশীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনার কারনে প্রশাসনের দূরের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় অন্য জেলা থেকে এবার এলাকায় খুব কম ধান কাটা শ্রমিক এসেছে। তাই মাঠের ধান পেকে গেলেও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও মজুরি বেশী দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছিলাম না। উপায়ন্তর না পেয়ে যুবলীগের ভাইদের সাথে যোগাযোগ করি। তারা ধান কেটে দেওয়ায় মজুরি লাগলো না। আমার অনেক উপকার হলো।’

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায় জানান, চলমান সংকটময় মুহূর্তে বোরো ধান কাটার ভরা  মৌসুমে বাইরের জেলা থেকে নওগাঁয় কৃষি শ্রমিক তেমন আসতে না পারায় কৃষি শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।  শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটায় খরচ পড়ছে বেশি।  তাই অনেক দরিদ্র চাষি পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। এই  সমস্যার সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশে নওগাঁ জেলার ১১ টি উপজেলায় ধানাকাটার জন্য যুবলীগ ১০০টি কমিটি গঠন করেছে। চাষিরা ফোন করলেই কমিটির সদস্যরা ধান কেটে ও মাড়াই করে কৃষকদের ঘরে তুলে দিচ্ছেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে এক কৃষকের এক বিঘা জমির ধান কাটার মধ্য দিয়ে আমাদের এই কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত পুরো জেলায় গঠিত ১০০কমিটির যুবলীগ কর্মীরা অন্তত দেড়শ কৃষকের ২০০ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন। পুরো মৌসুম জুড়েই আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।’ 

এদিকে যুবলীগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও কৃষকেরা। নওগাঁর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁর উপদেষ্টা কায়েস উদ্দিন বলেন, অসহায় কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ার যুবলীগের এই উদ্যোগ জেলা জুড়ে ব্যাপক সারা ফেলেছে। ধান পাকার পর থেকে প্রতিদিনই তারা জেলার কোনো কোনো এলাকায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন শ্রমিক সংকটে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তা কেটে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিনা খরচে ধান ঘরে উঠায় দরিদ্র চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন। প্রতিটি কাজে যুবকরা এভাবে এগিয়ে আসলে সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যুবলীগের মতো অন্যান্য রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।

মন্তব্য লিখুন :