মোবাইল সেবায় বর্ধিত কর গ্রাহকের ব্যয় বাড়াবে: গ্রামীণফোন

১১ জুন ২০২০, ২১:২০
অনুসন্ধান ডেস্ক

সদ্য ঘোষিত নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কারণে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে বলে মনে করে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন।

বৃহস্পতির জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গ্রামীণফোনের পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স প্রধান হোসে সাদাত এ কথা বলেন।

তিনি বরেন, ‘বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বর্ধিত করায় কভিড-১৯ ও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় মোবাইল সেবা ব্যবহারে গ্রাহকদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।’

এ ধরনের সিদ্ধান্ত ডিজিটাল বাংলাদেশের সম্ভাবনার পথে অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা এই সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার অনুরোধ করছি।’

প্রসঙ্গত, বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত বছরও একই হারে বাড়ানো হয়েছিল। নতুন কর হারে মোবাইল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ ও সারচার্জ ১ শতাংশ। ফলে মোট করভার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

এর মানে হলো, প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসেবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি, এত দিন যা ২২ টাকার মতো ছিল।

এর আগে, জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালেরও এটি দ্বিতীয় বাজেট।

এর আগে আজ মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা মহামারির বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। টাকার ওই অংক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৯ শতাংশের সমান।

বিদায়ী অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ১৮ শতাংশ বেশি এবং জিডিপির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।

মন্তব্য লিখুন :