কবির শানুর চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না : বেটার লাইফ হাসপাতাল

২৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০৬
অনুসন্ধান ডেস্ক

রাজধানীর বেটার লাইফ হাসপাতালে সম্প্রতি কি-বোর্ডিস্ট কবির শানুর মৃত্যুতে কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি হয়। কবির শানুর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে কবির শানুর মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে বেটার লাইফ হাসপাতালের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, কবির শানুর চিকিৎসায় হাসপাতালের কোনো গাফিলতি ছিল না। তাকে সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টাই তারা করেছেন।

রাজধানীর বেটার লাইফ হাসপাতালে সম্প্রতি কি-বোর্ডিস্ট কবির শানুর মৃত্যুতে কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি হয়। কবির শানুর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে কবির শানুর মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে বেটার লাইফ হাসপাতালের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, কবির শানুর চিকিৎসায় হাসপাতালের কোনো গাফিলতি ছিল না। তাকে সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টাই তারা করেছেন।

কি-বোর্ডিস্ট কবির শানুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বেটার লাইফ হাসপাতাল ২০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল; আমাদের হাসপাতালের সব বিভাগ সার্বক্ষণিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত। গত ১৬ অক্টোবর রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে রিকশাযোগে একজন ব্যক্তি ধরাধরি করে কি-বোর্ডিস্ট কবির শানুকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।

রাত ১১টা ১০ মিনিটে ইমার্জেন্সির কর্তব্যরত ডাক্তার বিভিন্ন টেস্ট এবং আইসিইউ বা এসডিইউতে ভর্তির জন্য অনুরোধ করলেও রোগীর আত্মীয়-স্বজন তখন অস্বীকৃতি জানায়। তারা রোগীকে নরমাল ওয়ার্ডে রাখার দাবি জানান। এমতাবস্থায় রোগীকে স্ট্রেচারে করে ইমার্জেন্সি থেকে ওয়ার্ডে নেওয়া হয় এবং ভর্তি করা হয়। এরপর স্বজনরা শুধু রোগীর স্ত্রীকে রেখে হাসপাতাল থেকে চলে যায়।

১৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ডাক্তার ও নার্স রোগীকে ভিজিট করে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু রোগীর স্ত্রী বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কোনো প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেন। সকাল ৭টার সময় আইসিইউ ডাক্তার রোগীকে এসে দেখেন এবং আইসিইউতে স্থানান্তরের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু রোগীর লোকজন পেটে গ্যাসের সমস্যার কথা বলে আইসিইউ বা এইচডিইউ-তে যেতে অস্বীকৃতি জানান। ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু টেস্ট করায়।

১৭ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগীকে আইসিইউ বা এসডিইউতে স্থানান্তর করতে বলা হলে রোগীর লোকজন বাধা দেয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য করেন। চিকিৎসক এবং নার্সদের অক্লান্ত চেষ্টার পরেও অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং মাল্টিওর্গান ফেইলর সিনড্রমের কারণে ১১টা ৪০ মিনিটে কি-বোর্ডিস্ট কবির শানু শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।

রোগীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে একটি সংঘবদ্ধ দল ফেসবুকে লাইভের মাধ্যমে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা করার উদ্দেশ্যে লোকজন জড়ো করে।

হাসপাতালের কার্যক্রমে বাধা প্রয়োগ এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। মুমূর্ষু রোগীদের সেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ১২ থেকে ১৩ জন রোগীকে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং রোগী, হাসপাতালের ডাক্তারদের ও বিভিন্ন কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাসপাতালে প্রবেশে ও কাজে বাধা প্রদান করে। বেটার লাইফ হাসপাতালের কর্তব্যরত নিরাপত্তা রক্ষীদের মারধর করে, হাসপাতালের কর্মচারীদের খুঁজে খুঁজে ধাওয়া করে এবং নার্স ও ব্রাদারসহ দুই তিনজনকে আঘাত করে। এমতাবস্থায় প্রাণের ভয়ে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা হাসপাতালের আইসিইউ প্রান্তে আশ্রয় নেয়।

এসব বিশৃঙ্খলাকারীরা হাসপাতালে একপ্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, অফিস ফ্লোরের সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং অনেক ফাইলপত্র ছিন্নভিন্ন করে।

একপর্যায়ে পুলিশ এলে এসব ব্যক্তিরা নিজেদের রোগীর স্বজন দাবি করে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে বারবার তাদেরকে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বললেও তারা সেটা অগ্রাহ্য করে ক্রমাগত হাসপাতালে অবস্থান করে এবং রোগীর স্বজনদের ভুলিয়ে ভালিয়ে মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যেতে থাকে।

বেটার লাইফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ১৭ অক্টোবরের ওপরের বর্ণিত সব ঘটনার প্রমাণাদি ও সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পক্ষ থেকে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের লাঞ্ছনাকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থার পদক্ষেপ প্রক্রিয়াাধীন আছে।

যেকোনো মৃত্যুই অনাকাঙ্ক্ষিত, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।


মন্তব্য লিখুন :