অস্থির সময়ে মুসলমানদের করণীয়

১১ অক্টোবর ২০২২, ০১:১৫
শাহিন আলম

এখন আমরা সবাই খুব অস্থির। বর্তমান যুগ অস্থিরতার যুগ। জীবন ও জীবিকার তাগিদে আমরা এতটাই ব্যস্ত যে, নিজেকে নিয়ে ভাবার মত সময় আমাদের হাতে নেই। বর্তমান যুগে বিজ্ঞান উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। নানা রকম যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে আমাদের কাজ হয়েছে সহজ, জীবন হয়েছে গতিময়। আমরা হয়ে উঠেছি যান্ত্রিক, আবেগ-অনুভূতি হীন এক গোষ্ঠী। আমরা এখন এতটাই ব্যস্ত আর যান্ত্রিক মানুষ হয়ে পড়েছি যে,পাশে শুয়ে থাকা মানুষটির অন্তরের খোঁজ রাখিনা। তার ইচ্ছা অনিচ্ছা ভালোলাগা-মন্দলাগার তোয়াক্কা করি না। যান্ত্রিকতা আর ব্যস্ততা আমাদেরকে দিন দিন পশুতে পরিণত করছে। হাজার হাজার বছর আগে থেকেই জ্ঞানীরা নিজেকে জানার কথা বলেছেন। ধর্ম আমাদেরকে বলে দিয়েছে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি? কোন কারণে আমরা সৃজিত হয়েছি। আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সৃষ্টি করে বলেন, "আমি সৃষ্টি করেছি জ্বীন ও ইনসানকে কেবলমাত্র এজন্য যে, যেন তারা আমারই ইবাদত করে। "(সূরা যারিয়াত আয়াত ৫৬)

আমরা এখন জ্ঞানের স্বল্পতা ও সময় অপচয় এর ফলে সেই এবাদত করতে ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের কাজকর্ম ইবাদতে পরিণত হচ্ছে না। আমাদের অন্তর আল্লাহ বিমুখ হওয়ার কারণে অন্তর হয়ে পড়েছে অশান্ত ও অস্থির। আমাদের সংসারে আমাদের সমাজে শান্তি নেই। পরিবারের একজনের সাথে আরেকজনের সমঝোতা নেই। মন খুলে দু'দন্ড কথা বলার অবসর নেই। আমরা এখন কারো সাথে সামনাসামনি কথা বলা পছন্দ করি না। তার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ করতে ভালোলাগে। যার ফলে আমাদের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রাতৃত্ববোধ।বেড়ে উঠছে অপরাধপ্রবণতা। এই সভ্যতা জীবিকার জন্য কেড়ে নিচ্ছে আমাদের সর্বস্ব।আমাদের সোনালি সময় কিনে নিচ্ছে মামুলি দরে।

আমরা এখন জীবিকার জন্য সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ছুটতে থাকি। নিজেকে সময় দেয়া নিজের আত্মা নিয়ে চিন্তা করা জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করা এখন বিলাসিতা পর্যায়ে পড়ে। সেই বিলাসিতা করতে রাজি নন অধিকাংশ মানুষ। গভীর চিন্তা-ভাবনা দূরের কথা ধর্মের মৌলিক বিধানাবলী পালনেও আজ আমরা ব্যর্থ। যা আমাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ। অভাব-অনটন এর কারণ। আমরা যদি যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতাম। তাহলে আল্লাহ আমাদের অবস্থা অনেক ভাল করে দিতেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, আল্লাহ বলেন -"হে আদম সন্তান আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময়ে তৈরি করো এবাদতে মন দাও।তাহলে তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্রতা ঘুচিয়ে দেবো। যদি তা না করো,তাহলে তোমার হাতকে কর্মব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর করব না। "(তিরমিজি, ইবনে মাজাহ।)

আমরা ভুল উপায়ে শান্তি খুঁজে চলেছি। ভুল উপায়ে রিজিক বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা দিন-রাত সব সময় পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কিন্তু ফল হচ্ছে তার উল্টো। আল্লাহর এবাদত না করার কারণে আমাদের জীবনে নেমে আসছে অস্থিরতা হতাশা। আমাদের জীবনের সব দিক হয়ে আসছে সংকীর্ণ। এ অবস্থা থেকে একমাত্র উত্তরণের পথ হল আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়া।তার ইবাদতের জন্য সময় বের করা। মহান আল্লাহ বলেন- "অতঃপর যখন তুমি অবসর পাবে তখনই তুমি (ইবাদতের জন্য) পরিশ্রম করো,এবং তুমি তোমার প্রভুর দিকে মনোযোগী হও। (সূরা ইনশিরাহ আয়াত ৭-৮)

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছেন। সারাদিন পরিশ্রমের পরে আমাদেরকে তাঁর ইবাদত করতে হবে। তবেই দূর হবে আমাদের অস্থিরতা, অশান্তি,অভাব অনটন। নেমে আসবে শান্তি সুখ আর আত্মতৃপ্তির অমিয় ধারা।

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক
[email protected]

মন্তব্য লিখুন :