১৭ বছর ক্লাসে অনুপস্থিত, অথচ এমপিওর জন্য দৌড়ঝাঁপ শিক্ষকের

০৭ মে ২০২০, ১৬:৫৫
আইয়ুব হোসেন খান, মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় নতুন এমপিওভুক্ত যশপুর মহিলা দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে এক শিক্ষককে পূর্বের তারিখে নিয়োগ দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১৭ বছর ক্লাস না নেওয়া ওই শিক্ষকের এমপিও বেতনের জন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। স্থানীয় চাপের কারণে বাধ্য হয়ে এ তোড়জোড় চালাচ্ছেন বলে জানান প্রতিষ্ঠান প্রধান মোহাম্মাদ মোহসীন। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. শরিফুজ্জামান টুকু।

এদিকে উৎকোচ নিয়ে অবৈধভাবে ওই শিক্ষককে পূর্বের তারিখে নিয়োগ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাদরাসা কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী। এ বিষয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন। 

অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান মোহাম্মাদ মোহসীন উৎকোচ নিয়ে অনিয়ম করে ভুয়া বিএড সনদপত্রে প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি মৃত হাবিবুর রহমান মোল্যার ছেলে শরিফুজ্জামান টুকুকে পূর্বের তারিখে নিয়োগ দেখান। তারপর তার বেতনের জন্য বিভিন্ন তথ্য ফরমে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন। পূর্বে বিভিন্ন সময় সরকারি অফিসে প্রেরিত তথ্যের কোথাও মোঃ শরিফুজ্জামান টুকুর নাম ছিল না। তিনি পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকও ছিলেন না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই শিক্ষক নিয়োগের পর থেকে প্রতিষ্ঠান এমপিও পর্যন্ত ছাত্রীদের পাঠদান করাননি। তিনি কোন অনুষ্ঠান হলে সে সময় সুযোগ পেলে সাধারণভাবে এসে চলে যেতেন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠান প্রধানও স্বীকার করেছেন। 

প্রতিষ্ঠান প্রধান মোহাম্মাদ মোহসীন উৎকোচের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শরিফুজ্জামান টুকু বৈধ নিয়োগের পর থেকে যেহেতু প্রতিষ্ঠানে আসতেন না, সে কারণে তার নাম কোন তথ্য ফরমে দেইনি। এখন প্রতিষ্ঠান যেহেতু এমপিওভুক্ত হয়েছে, সেকারণে তিনি নিয়মিত আসবেন এবং পাঠদান করবেন। তাছাড়া তারা যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন সে কারণে তাদের এবং স্থানীয় চাপে এমপিওভুক্তির জন্য তার নাম তালিকায় দিতে হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, যদি ওই শিক্ষক ১৭ বছর ক্লাস না নিয়ে থাকেন, তবে তিনি এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য হবেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য ওই শিক্ষকের নাম এখন যাবে না। তদন্ত শেষে যোগ্য বিবেচিত হলে তারপর নাম যাবে।

মন্তব্য লিখুন :