আত্রাইয়ে সন্তানদের জন্য লড়াই করা অসহায় এক বৃদ্ধের করুণ গল্প

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:১৫
মো. রুহুল আমীন, বিশেষ প্রতিনিধি ও সোহেল আরমান, আত্রাই প্রতিনিধি

কষ্ট যেন তার চিরসঙ্গী। প্রতিনিয়ত কষ্টের সঙ্গে যুদ্ধ করা মানুষটি সুখের সন্ধানে মরিয়া। তবে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা ও দারিদ্র্যতার করণে সুখের দেখা মিলছে না তার।

 হতভাগ্য এই মনুষটি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের মহাদিঘী গ্রামের বৃদ্ধ ভ্যানচালক মমতাজ হোসেন ওরফে কালু (৬৫)। বাড়ির ভিটেছাড়া সহায় সম্বলহীন এক মানুষ। চার সদস্যের ছোট পরিবার হলেও এ বয়সে ভ্যান চালিয়ে অসুস্থ স্ত্রী-সন্তানদের খাবার আর ওষুধপত্রও যোগতে পারছেন না মমতাজ। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ে লিপি পারভীন (৪৫) গত ১৮ বছর আগে স্টোক করে প্যারালাইজড। সেই থেকে বিছানায় টান হয়ে শুয়ে আছেন। না পারেন চলাফেরা করতে, না পারেন কথা বলতে। উঠে দাঁড়াবার শক্তি নাই। নাই পর্যাপ্ত চিকিৎসা। নাই ওষুধ কেনার পয়সা। 

অপরদিকে এক ছেলে সুমন (২৫) পাঁচ বছর আগে হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর এসে মাথায় গন্ডগোল দেখা দেয়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা না দিতে পারায় সে এখন উন্মাদ পাগল। সেই থেকে শিকল দিয়ে ঘরে মধ্যে বেঁধে রাখতে হয়। সকাল বিকাল প্রতিনিয়ত সেখানেই সেবা দিতে হয় বৃদ্ধ বাবা মমতাজের। 

এমন দুরবস্থায় মধ্যে অসুস্থ ছেলে মেয়েদের নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন মমতাজ। আগামী দিনে কি করে ছেলে মেয়ের মুখে খাবার ওষুধ যোগাবেন সেই চিন্তার শেষ নেই।

এক প্রশ্নে জবাবে মমতাজ বলেন, আমি বহুবার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে গিয়ে আমার অসুস্থ সন্তাদের কথা বলেও কোন লাভ হয়নি। কোন ভাতার কার্ড তারা আমার করে দেয়নি। আমার এমন অবস্থা জেনেও এত দিনেও কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। 

তিনি আরো বলেন, আমিও নানা রোগ শোকে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছি। কখন যে কি হয়। তখন আমার এই ২টি সন্তানের কি হবে চিন্তায় ঘুম আসে না। বাচ্চার মাও তাদের টানতে টানতে এখন অসুস্থ।

প্রতিবেশি কামরুল হাসান চৌধুরী জানান, এই পরিবারটি গরিব অসহায়। অসুস্থ সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ভ্যানচালক মমতাজ অসুস্থ ছেলেমেয়ে নিয়ে বড় অসহায়। আগামীতে মমতাজ অসুস্থ হলে এই পরিবার কিভাবে চলবে এই নিয়ে আমরা প্রতিবেশীরা চিন্তায় আছি। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত এই অসহায় পিতার পাশে দাঁড়ানো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিদ্দিক বলেন, এমনিতে সাধারণ রিলিফ দিয়ে থাকি। তবে দুস্থ ভাতার কার্ডের জন্য মাষ্টার না থাকায় কোন কার্ড করে দিতে পারেনি। এবার এলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

এব্যাপারে ভোঁপাড়া ইউপি চেয়ারম্যন জান বক্স সরদার বলেন, মমতাজের ছেলে মেয়ে অসুস্থ এটা আমার জানা ছিল না। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :