৭৪ ভাগ অভিবাসী কর্মী মানসিক চাপ ও ভীতির মধ্যে : ব্র্যাক

১১ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৫
অনুসন্ধান প্রতিবেদক
৭৪ শতাংশ প্রবাসী প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন-ছবি সংগৃহীত

করোনা মহামারীর সংকটের এ সময়ে ৫৫৮ জন বিদেশফেরত অভিবাসীর ওপর করা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ প্রবাসী প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি। অভিবাসীদের এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং মানসিক চাপ দূর করতে হলে তাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছে ব্র্যাক। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  আজ ১০ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য : মানসিক স্বাস্থ্যে অধিক বিনিয়োগ, অধিকতর সেবার সুযোগ’। শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যে আলাদা গুরুত্বের দাবি রাখে, সে বিষয়ে জনসচেতনা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও অব্যাহত আছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, এরই অংশ হিসেবে দেশের অভিবাসনপ্রবণ ১২টি জেলায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ১৫ জন প্রশিক্ষিত মনোসামাজিক কাউন্সেলর কর্তৃক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা-বিষয়ক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। এ ক্যাম্পেইনে কাউন্সেলরা বিদেশফেরত অভিবাসীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি কারো যদি ব্যক্তিগত কাউন্সেলিংয়ের দরকার হয় তাহলে তাকে বিনামূলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা-বিষয়ক বিভিন্ন স্লোগানসম্বলিত পোস্টার-প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমেও সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়।

মানসিক স্বাস্থের উন্নয়নে ব্র্যাকের প্রচারণাদিবসটি উপলক্ষে প্রবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে সবাইকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘সাধারণ মানুষজন শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দিলেও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি একেবারেই উপেক্ষিত থাকে। বিশেষ করে অভিবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আরো উপেক্ষিত। ফলে তারা বিচ্ছিন্ন বোধ করেন। নানা সংকটে থাকেন। করোনার এই সংকটকালে বিদেশফেরত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আমরা দেখেছি তাদের অধিকাংশই মানসিক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ফলে বিদেশফেরতদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা উচিত। এটি পরবর্তী সময়ে তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করে।’

বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছরে আমরা অন্তত দুই হাজার মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি। আর করোনার এ দুঃসময়ের মধ্যেই অন্তত তিন হাজার বিদেশফেরত অভিবাসী আমাদের টেলি-কাউন্সেলিং সেবা পেয়েছেন। এই কাজটি করতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, একজন বিদেশফেরত অভিবাসীর জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কতোটা জরুরি। আশা করছি, আমাদের বিভিন্ন দূতাবাসসহ প্রবাসীদের সেবার সঙ্গে জড়িত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ বিষয়ে নজর দেওয়া হবে।’

মন্তব্য লিখুন :