ধর্ষকদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে থানায় গিয়েই জ্ঞান হারালেন যুবতী

১২ অক্টোবর ২০২০, ২০:৩২
অনুসন্ধান ডেস্ক

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক যুবতীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছয় বন্ধুর বিরুদ্ধে।

গত শনিবার বিকেলে থেকে রোববার গভীর রাতে পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের জলসা আবাসিক হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় হোটেল ম্যানেজারসহ সাতজনকে আটক করেছে।

সোমবার থানায় মামলা করার সময় ধর্ষণের শিকার যুবতী অজ্ঞান হয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল গ্রামের রাজমিস্ত্রির ছেলে নয়নের (২২) সঙ্গে এক মাস পূর্বে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় মিরসরাই উপজেলার ২২ বছর বয়সী

এক যুবতীর। এর পর থেকে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়নের সঙ্গে ওই যুবতীর নিয়মিত যোগাযোগ হতো। নয়ন গত শনিবার বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই যুবতীকে সীতাকুণ্ডে ডেকে নিয়ে আসে। পরে পৌর সদরের জলসা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে ওই যুবতীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর নয়ন তার ছয় বন্ধুকে হোটেলে ডেকে নিয়ে এসে সবাই মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে মেতে উঠে। শনিবার রাত থেকে শুরু করে

রোববার রাত পর্যন্ত চলে এই ঘটনা। পরে সোমবার সকালে ওই যুবতী কৌশলে তাদের থেকে ছাড়া পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে হোটেল জলসা ও পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ছয়বন্ধুসহ হোটেল ম্যানেজারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটকরা হলেন- উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল গ্রামের মো. নুর নবীর ছেলে মোহাম্মদ আলীম হোসেন (২২), গুলিয়াখালী খালিদ মেম্বারের বাড়ির মোহাম্মদ জামাল উল্লাহ মোহাম্মদ রিফাত (১৯), দক্ষিণ ভাটেরখীল

গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে মোহাম্মদ ইমন ইসলাম (২০), একই এলাকার নেছার আহমেদের ছেলে রনি (২০), জসিম উদ্দিনের ছেলে বারেক (২২) ও আবুল কাসেম মিস্ত্রির ছেলে নয়ন (২২) এবং জলসা হোটেলের ম্যানেজার দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নুর উদ্দিন (৩৮)।

এদিকে থানায় মামলা দায়ের করার সময় ধর্ষণের শিকার ওই যুবতী অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুমন বনিক বলেন, ধর্ষণের শিকার যুবতী স্বামী পরিত্যক্তা। এক মাস পূর্বে নয়নের সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তার পরিচয় হয়। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই যুবতীকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে এসে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

মন্তব্য লিখুন :