আত্রাইয়ে নাওয়া-খাওয়ারও সময় নেই প্রতিমা শিল্পীদের

১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৬:২৯
মো. রুহুল আমীন, বিশেষ প্রতিনিধি ও সোহেল আরমান, আত্রাই প্রতিনিধি

বৈশিক করোনা মহামারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। আর মাত্র কিছু দিন বাকি শারদীয় দুর্গা পূজার। এ কারণে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। ব্যস্ততার কারণে যেন নাওয়াখাওয়ারও সময় পাচ্ছেন না প্রতিমা শিল্পিরা। 

এবছর উপজেলায় ৪৭টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সত্যেন চক্রবর্তী । পূজা উৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দিরগুলোতে চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে বেশির ভাগ মন্ডপে প্রতিমায় মাটি লাগানোর কাজ প্রায় শেষ। কিছু কিছু মন্দিরে শুরু হয়েছে রং তুলির কাজ।

আগামী ২২-২৬ অক্টোবর ৫ দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা এখানে এসে প্রতিমা তৈরি ও রং তুলির কাজ করছেন। অন্যদিকে প্রতিমার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ঠিক ও তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক-ঢোল, কাঁশি ও বাঁশির কারিগররা। বৈশিক করোনা মহামারি এবং আত্রাইয়ে দফায় দফায় বন্যায় হোঁচট খেলেও দুর্গাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। 

প্রতিমা শিল্পী যুগোল কুমার জানান, প্রতিমার মাটি শুকালেই শুরু হবে রং তুলির অাঁচড়। প্রতিমাগুলো মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছি । আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে সকল প্রতিমা তৈরীর কাজ।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বরুন কুমার সরকার জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ ২৬টি নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছেন। আমরা ৪৭টি মন্ডপে সেগুলো পৌঁছে দিয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী পূজা অনুষ্ঠানে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 

আত্রাই থানার ওসি মোসলেম উদ্দিন বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তাসহ শান্তিপূর্ণ ভাবে উৎসব সমাপ্ত করার লক্ষে সকল প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক দূরুত্ব এবং আইনশৃংখলা ঠিক রাখতে প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন এসআই এর নেতৃত্বে প্রতিটি মন্দিরে পুলিশের পাশাপাশি আনছার ও গ্রামপুলিশ মোতায়েন থাকবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, বৈশিক করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের পূজা একটু ভিন্নভাবে পালিত হবে। আশা করছি সরকারি  নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য লিখুন :