'ডা. সিনহার কাছে বাংলাদেশ ছিল ভালোবাসা ও প্রেরণার নাম'

২৩ অক্টোবর ২০২১, ২০:১৮
অনুসন্ধান ডেস্ক

'সদ্যপ্রয়াত ডা. সিনহা মনসুর ব্যতিক্রমী চিকিৎসক ছিলেন। তার পেশা ছিল চিকিৎসা, কিন্তু তার মননের অঙ্গীকার ছিল লেখার। তার ৮টি বই এবং একটি আত্মজীবনী প্রকাশি হয়েছে। এছাড়া তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়েও অনেক লেখালেখি করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার অবদান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তার নাম এসেছির ক্যমব্রিজ হু হুতে।  ডা. সিনহা মনসুর ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন অনন্য সন্মান ও গৌরবের জায়গায়, তিনি ছিলেন 'লিডিং ফিজিশিয়ান অব দ্যা ওয়ার্ল্ড' এর তালিকাভুক্ত একজন।  তিনি বহুবছর ধরে প্রবাসী হলেও বাংলাদেশ ছিল তার কাছে ভালোবাসা ও প্রেরণার নাম। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশ এক অসীম সম্ভাবনার দেশ।'

'জীবন-মৃত্যু ও আমরা শীর্ষক' এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া সময় রাত ১০টা ও বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কবি, লেখক ও আইনজীবী আইভি রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা  থেকে সংগঠক মোহাম্মদ মুনির হোসেন। অনুষ্ঠানে সদ্যপ্রয়াত নিউইয়র্ক প্রবাসী প্রথিতযশা সাহিত্যিক এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ডা. সিনহা মনসুরের জীবন নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করেন বক্তারা। এতে অংশ নেন ডা. সিনহা মনসুরের বড়ভাই ডা. সিনহা এম এ সাইদ, জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশি কামরুজ্জামান ও সিডনি প্রবাসী রফিক ইসলামসহ অনেকে।

আইভী রহমান ও মোহাম্মদ মুনির হোসেন

ডা. সিনহা এম এ সাইদ বলেন- মনসুর আমার ছোট ভাই। ছাত্রজীবন থেকেই সে লেখালেখিতে জড়িত।  প্রবাসে গিয়েও তার লেখালেখি অব্যহত ছিল। প্রতিবছরই যখন বাংলাদেশে আসতো একটা করে বই লিখতো। প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কেও তার আগ্রহ ছিল।  সে হুমায়ূন আহমেদের ওপর বইও লিখেছে। হুমায়ূন যখন নিউয়র্কে মারা যান, সেই হাসপাতালেও গিয়েছিল সিনহা মনসুর। কিন্তু হাসপাতালেও যাওয়ার পরও সে হুমায়ূনের সঙ্গে দেখা করেনি।

তিনি বলেন- এর কারণ হিসেবে সিনহা মনসুর বলেছিল, "হুমায়ুনেরর সঙ্গে দেখা করলে হয়তো তার প্রতি আমার সন্মানের ঘাটতি কিংবা বাড়তি হবে।" কিন্তু হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে সিনহা মনসুর যতগুলো বই লিখেছে সে বিষয়ে হুমায়ূনের পরিবার, এমনকি শাওন আহমেদও বলেছেন 'হুমায়ূনকে নিয়ে সিনহার মতো কেউ কিছু লেখেনি'।   


আইভী রহমান বলেন- ডা. সিনহা মনসুর ব্যতিক্রমী চিকিৎসক ছিলেন। তার পেশা ছিল চিকিৎসা, কিন্তু তার মননের অঙ্গীকার ছিল লেখার। তার ৮টি বই এবং একটি আত্মজীবনী প্রকাশি হয়েছে। এছাড়া তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়েও অনেক লেখালেখি করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার অবদান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তার নাম এসেছির ক্যমব্রিজ হু হুতে।  ডা. সিনহা মনসুর ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন অনন্য সন্মান ও গৌরবের জায়গায়, তিনি ছিলেন ইরিটিং ফিজিশিয়ান অব দ্যা ওয়ার্ল্ড এর তালিকাভুক্ত একজন।  তিনি বহুবছর ধরে প্রবাসী হলেও বাংলাদেশ ছিল তার কাছে ভালোবাসা ও প্রেরণার নাম। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশ এক অসীম সম্ভাবনার দেশ।  তিনি প্রবাসে থেকেও বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে তার স্মৃতি রেখে গেছেন, চিকিৎসা অঙ্গনেও তার স্মৃতি রেখে গেছেন। তাকে ভুলে যাওয়া এত সহজ নয়।  তিনি দূরে চলে গেলেও তাকে আমরা ভুলতে পারবো না।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক প্রবাসী প্রথিতযশা সাহিত্যিক এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ডা. সিনহা মনসুর গত ১৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার আগে গত ৪ অক্টোবর ডা. সিনহা মনসুরের সেভিয়ার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এর পর থেকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় নিউইয়র্কের ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

পেশার পাশাপাশি সাহিত্যেও আলো ছড়িয়েছেন প্রয়াত এই চিকিৎসক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: জীবনানন্দ: সময়ের নিঃসঙ্গ নাবিক, এক মুক্তিযোদ্ধার না বলা কথা, ঘুরে দেখা শান্তিনিকেতন কাঠমাণ্ডু ও দার্জিলিং, দ্বীপ ও জনপদের গল্প, হুমায়ুন একজন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা, সেইসব অদ্ভূত ভ্রমণ, জীবন এতো ছোট কেন?

মন্তব্য লিখুন :