'সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতি নির্মূল না করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়'

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৩২
অনুসন্ধান ডেস্ক

"জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চারটি মূলনীতি গন্ততন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতির নির্মূল না করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।"

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত "বঙ্গবন্ধু সম্মেলন" শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গত ২০শে নভেম্বর এই সভার আয়োজন করা হয়। 

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সভায় স্মারক বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন এন আর বি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও রাশিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল পারভেজ, কানাডা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আমিন মিয়া, যুক্তরাজ্য বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লোকমান হোসেন, সহসভাপতি মো. মকিস মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক এম আলিমুজ্জামান এবং অস্ট্রেলিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা মো. মুনীর হোসেন।  

সভার শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ , জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ও ৩রা নভেম্বর  নিহত সকল শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।  এরপর যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের টাইটেল স্পন্সরে নির্মিত 'ফিরে এসো বঙ্গবন্ধু' সংগীত চিত্র প্রদর্শন করা হয়। 

পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ডঃ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু যে কত বড় হৃদয়ের মানুষ ছিলেন তা আমরা বুঝতে পারি তার কিছু  কিছু কর্মকাণ্ডে। বঙ্গবন্ধু একবার বলেছিলেন, আমি তোদেরকে হয়ত কিছু দিতে পারিনি, কিন্তু একটি সবুজ পাসপোর্ট আর একটি পতাকা দিয়ে গেলাম - এই দুটো দিয়েই তোরা মাথা উঁচু করে চলতে পারবি। কথাটি কত গুরুত্বপূর্ণ আমরা এখন তা উপলব্ধি করতে পারি। ১৯৭১ সালে বা তার আগে কয়জন বাঙালি বিদেশে যেতে পেরেছিল ?  পাসপোর্ট পর্যন্ত পাওয়া যেতো না। আর এখন আমরা প্রায় এক কোটিরও অধিক বাঙালি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করছি। এটি সম্ভব হয়েছে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের ফলে। বঙ্গবন্ধু প্রচণ্ড সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার ৭ই মার্চের ভাষণ আজ শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয়, বিশ্ব সম্পদ। 

একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী বলেন, আমাদের  উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন দেশে ও প্রবাসে শুধু বাঙালিদের কাছে নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া। এসময় তিনি বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্ত সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। 

অস্ট্রেলিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা মো. মুনীর হোসেন বলেন, জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু এখন বিশ্বব্যাপী বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর কারণেই আমরা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি, নিজস্ব পাসপোর্ট পেয়েছি।  আমি সব সময়ই বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। বঙ্গবন্ধুর কারণে আমরা আজ নিজেদের ভাষায় কথা বলতে পারি, তার কারণেই বাংলা আজ পৃথিবীর সপ্তম ভাষা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অধুনালুপ্ত বাংলা পত্রিকা সাপ্তাহিক প্রবাসীর সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ তার স্মারক বক্তৃতায় বলেন,  বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল একটি সোনার বাংলার, যেখানে একটি ন্যায় সমাজ প্রতিষ্ঠিত থাকবে, একটি অসম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠিত থাকবে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা থাকবে। সেই বাংলাদেশ যদি আমরা দেখতে পাই, তাহলেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের যথাযত সম্মান প্রদর্শিত হবে। 

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে লুকিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাংলাদেশের ফেরৎ পাঠানোর লক্ষ্যে যৌথ উদ্দ্যেগ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা 'আমাদের বঙ্গবন্ধু ছিলেন' পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ বৃহত্তর ওয়াশিংটনের সভাপতি দস্তগীর জাহাঙ্গীর। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডঃ সিদ্দিকুর রহমান, ফোবানা চেয়ারম্যান ও ইউএসএ কমিটি ফর সেকুলার এন্ড ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা এম এ সালাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ক্যালিফোর্নিয়ার উপদেষ্টা মোমিনুল হক বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক রানা মাহমুদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ বৃহত্তর ওয়াশিংটনের উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রাক্তন সিনিয়র প্রসিকিউটর অমর ইসলাম, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক শাহদাত হাসান, যুক্তরাজ্য থেকে মোস্তফা বাবলূ প্রমুখ। সম্মেলনে আরও সংযুক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ মিশিগানের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আহাদ আহমদ, শাখাওয়াত আলী, অধ্যাপক ডঃ রাজীব, জামাল খান প্রমুখ। 

মন্তব্য লিখুন :