দুর্নীতির টাকায় বিএডিসি কর্মকর্তার সম্পদের পাহাড় (প্রথম পর্ব)

১৬ আগস্ট ২০২২, ১১:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সময়ের কৃষি প্রধান অর্থনীতির বাংলাদেশের কৃষি খাতকে যুগোপযোগী করে তুলতে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি)। দেশের কৃষি, কৃষক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েই প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ। কিন্তু দেশের কথা না ভেবে প্রতিষ্ঠানটি এক যুগ্ম পরিচালক দুর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়তে ব্যস্ত।

সরকারি এই কর্মকর্তা নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে প্রকল্পের কাজ দিচ্ছেন নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের। তবে এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা। অনুসন্ধান বলছে, শুধু এই সেঁচ প্রকল্প থেকেই প্রায় ৩০ কোটি অবৈধভাবে বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে, কুমিল্লা এবং চাঁদপুরের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার তথ্য প্রমাণ রয়েছে। সে বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে অনুসন্ধানের পরের পর্বে।

জানা গেছে, প্রায়শই নানান অজুহাতে কানাডা সফর করা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে দেশের অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। সম্প্রতি কানাডা থেকে ফিরে রাজধানীর বাংলামটর ও গুলশান থেকে চার ধাপে কানাডায় অর্থ পাঠিয়েছেন এই অর্থপাচারকারী। এর মধ্যে গত ২১ মে বাংলামটর থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে কানাডায় পাচার করেছেম তিনি। 

অধিকতর অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএডিসির এই কর্মকর্তার রাজধানীর উত্তরায় ১১ নম্বর সক্টেরে তিনটি ফ্ল্যাট, ১০ নম্বর সক্টেরে দু’টি প্লট, রাজউক পূর্বাজল প্রজেক্টে একাধিক প্লট, লালমাটয়িায় একটি ফ্ল্যাট এবং দু’টি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। এছাড়া উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে নিজের অবৈধ প্রায় ১০ কোটি টাকা লুকিয়ে রেখেছেন সরকারি এই কর্মকর্তা।

এতসব দুর্নীতি ও অনিয়মের খোঁজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও, অধিকাংশ জায়গাতেই হয়েছে চরম দুর্নীতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকাতে সাইনবোর্ড থাকলেও কোনও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয়েরও কোনও উল্লেখ করা হয়নি।

সরকারি নথি থেকে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এডিপিভুক্ত ৬৮টি প্রকল্পের একটি কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেঁচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প। বিএডিসির অধীনের ২০১৯ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি সংস্থার ক্ষুদ্রসেচ উইংয়ের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সেঁচ এলাকায় খাল পুনঃখনন, মাটির নিচে ও ওপরে সেঁচ নালা নির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের ড্যাম নির্মাণ, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, সৌরশক্তিচালিত পাম্প স্থাপনসহ সেঁচ এলাকায় ইউনিট অফিস কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ।

তবে বিগত দুই বছরেও তেমন আশানুরূপ কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। বিশেষ করে চাঁদপুর জেলায় নানা অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও ধীর গতিতে চলছে প্রকল্পরে র্কাযক্রম। এমনকি দুই বছরে কোনও ইউনিট অফিস কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ না করেই চলছে প্রকল্পের কাজ।

প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে এলাকাবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ ও অসন্তোষ থাকলেও, প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নামমাত্র কাজ শেষ করেই নামফলক বসানো ঠিকই চলছে। এই নিয়ে জনমনে অসন্তোষেরও দেখা দিয়েছে।  

এভাবেই দুর্নীতির টাকায় আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এই কর্মকর্তার পরিচয়সহ তার অনিয়মের বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন অনুসন্ধানের পরের পর্বে। 



মন্তব্য লিখুন :