শিশুকালেই যেভাবে আমি জামাত-শিবিরের খপ্পড়ে পড়েছিলাম

১১ আগস্ট ২০২০, ১২:৩৪
কাজী আহমেদ পারভেজ

সময়টা তখন ১৯৭৬ কিংবা ১৯৭৭ সাল। আমি ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ স্কুলে পড়ি। ক্লাস সিক্সে বা সেভেনে।

দিশারী নামের এক শিশু-কিশোর সংগঠন হঠাৎ করে খুব একটিভ হয়ে উঠলো স্কুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। আমরাও ওদের সাথে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেই, ভালই লাগে।

একদিন দেখি দিশারীর লোকজনই কী এক ইসলামী প্রদর্শনী করছে স্কুল অডিটরিয়ামে, কিন্তু নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে "ফুলকুড়ি" বলে। জানলাম, দিশারী ফুলকুড়িতে পরিণত হয়েছে। প্রদর্শনীতে আমাকেও দাঁড় করয়ে দিল ভলান্টিয়ারদের একজন হিসাবে। পরে ফেরার সময় একটা সদস্যপদের আবেদন ফর্ম ধরিয়ে দিয়ে বললো, কাল এক টাকা নাকি দুই টাকা নিয়ে আসার জন্য, ভর্তি ফি হিসাবে।

আমি তো খুবই থ্রিলড। বাসায় গিয়ে আব্বাকে ফর্মটা দিয়ে বললাম, টাকার কথা। বাবা বললেন- টাকা কিসের জন্য?

বললাম - ফুলকুড়ির সদস্য হবো।

বাবা বললেন- দেখি কিসের ফুলকুড়ি?

দেখালাম। ফর্মে থাকা সবার নামধাম দেখে আব্বা বললেন, "সব তো দেখি ছাত্র সংঘের লোকজন। ছোটদের জন্য একটা ছাত্র সংঘ খুলে বসেছে দেখছি। ওখানে মূল নেতৃত্বে থাকা একজন ছিল মীর আলীও।

আমিতো মীর কাশেম চিনি না, ছাত্র সংঘও বুঝি না। কিন্তু আব্বার অনীহার কারনে সেবার আর ফুলকুড়িতে ঢোকা হলো না। পরে ওরা ছাত্র শিবিরে আত্তিকৃত হয়ে যায়।

আমার বন্ধুরা যারা তখন একবার ফুলকুড়িতে ঢুকেছিল, আর তারা জামাতের ছত্র ছায়া থেকে বের হতে পারে নাই। কোনো না কোনো ফর্মে এখনো জামাতের ছায়াতলেই আছে।

প্রথমবারের মত ফুলকুড়ি-শিবির-জামাত চক্রের খপ্পড়ে পড়া থেকে অল্পের জন্য পিছলে গিয়েছিলাম!!! 

এখনও ভাবি, সেদিন যদি কিছু না দেখে, না জিজ্ঞাসা করে আব্বা ঐ ১ বা ২ টাকা দিয়ে দিতেন, ফুলকুড়ির নেশায় আমার হয়তো আর ক্যাডেট কলেজে যাওয়া হতো না। শিবির হয়ে এখন জামাতের কেউ একজন হিসাবে জীবন কাটাতাম। মীর কাশেম, গো আজমদের শোকে দিনাতিপাত করতাম!!!

কত্তো আগে এরা সিক্স সেভেনের ছেলে পেলে কেও টার্গেট করতো, ভাবা যায়!!!


মন্তব্য লিখুন :