দেশে কি ধর্ষণ হঠাৎ করে বেড়ে গেলো?

০৫ অক্টোবর ২০২০, ১৩:১০
ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন
ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন

আমি অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গায় বসে আছি। বারান্দার সামনে সারি সারি সবুজ গাছ। গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। সূর্যের তাপের তীব্রতা নেই, বরং বসন্তের মৃদুমন্দ হাওয়া বইছে। সামনেই বিশাল স্মিথস লেক। আমার বেশ কিছু কবিতা আংশিক লেখা হয়েছে, এগুলো শেষ করতে হবে। অসাধারণ একটা ভালো লাগা দিয়েই দুপুরটা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন আর আমার ভালো লাগছে না। 

বাংলাদেশের ধর্ষণের ঘটনাসমূহ আমাকে তুমুল কষ্ট দিচ্ছে। সিলেটের জোড়া ধর্ষণ, কুমিল্লার ধর্ষণ, নোয়াখালির ধর্ষণ, সেইসাথে সিদ্ধিরগঞ্জের মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিশু ছাত্রকে বলাৎকার! হঠাৎ করেই কি দেশে ধর্ষণ বেড়ে গেলো? নাকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে এখন মানুষ বেশি জানতে পারছে? সকালে ফেসবুকে বন্ধু পারভেজের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানলাম, বাংলাদেশে শতকরা আশিটি ধর্ষণের কথা প্রকাশই পায় না। বাকী শতকরা কুড়িটি ধর্ষণের মধ্যে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়ায় দশটা। তার মধ্যে শতকরা পাঁচটা ক্ষেত্রে ধর্ষকের শাস্তি হয়। 

তার মানে, আমরা বিশাল বরফখণ্ডের কেবল চূড়াটাই দেখছি। জলের নীচে ডুবে থাকা বরফের বিশাল অংশটিই অদেখা রয়ে যাচ্ছে। কেবল শাস্তি দিয়ে কি এই অপরাধ কমানো যাবে? প্রচলিত আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কাউকে ধর্ষণ করে হত্যা করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এত কঠিন শাস্তির বিধানের পরও কি দেশে ধর্ষণ কমেছে? 

ধর্ষণ কেন বাড়ছে, তার কারণগুলো খুঁজে বের করার ব্যাপারে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। যতদিন কারণ চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা না করবো, ততদিন ধর্ষণ কমবার কথা না। নোয়াখালীর ধর্ষক দেলওয়ার, বাদল, রহিম ধরা পড়েছে। তাদের ভাইরাল করা ভিডিওটা না দেখলেও আমি তার বর্ণনা পড়েছি। সিলেটের ধর্ষকরাও ধরা পড়েছে, আদালতে তারা স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। সমাজে এইসব জানোয়ারদের কারা জন্ম দিচ্ছে, পেলে-পুষে বড় করছে? ধর্ষণের পর রক্ষা করারও চেষ্টা করছে? তারা কি একদিনেই ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ করে ফেলছে? তাদের অতীতের রেকর্ড কী? তারা কি কোনো রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে উঠেছে? তারা কি সন্ত্রাস, নেশা, চাঁদাবাজির সাথে জড়িত? কারা তাদের গডফাদার? ধর্ষণ কমাতে হলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানাটা জরুরি। 

সমাজে যখন ধর্ষণের মতো অপরাধ বাড়তে থাকে, সে দেশের রাজনীতিবিদরা তখন কিন্তু তাদের দায় এড়াতে পারেন না। সমাজের মঙ্গলের জন্যই তো রাজনীতি, ধর্ষকের প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়। 

লেখক : চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর)।

মন্তব্য লিখুন :