চাল চুরিতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানদের মনোনয়ন দেবে না আ. লীগ

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০০
অনুসন্ধান প্রতিবেদক

চাল চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের দুইজন সদস্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তারা জানান, যে সকল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে চাল চুরি, গম চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে-সেসকল জনপ্রতিনিধিরা যদি নৌকার প্রার্থী হয়ে থাকে, তাহলে এরা দলীয় প্রতীক পাবেন না। এব্যাপারে আমাদের দলের সিদ্ধান্ত আছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে। ২০ সেপ্টেম্বর ফরম সংগ্রহ ও জমাদান শেষ হয়।  

আসন্ন এসব নির্বাচনে বিগত সময়ে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। রংপুর জেলার সদর উপজেলার আলমপুর, সদ্যপুস্করনী, হরিদেবপুর, চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। সেখানে সদ্যপুস্করনী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তিনি এবারও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় ফরম সংগ্রহ করেছেন।

অসহায় ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯ সালের ৩০ মে বুধবার রাতে রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করনী ইউনিয়ন এলাকা থেকে চালসহ ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও সহযোগী আনছারুল ইসলামকে আটক করা হয়। ওই রাতেই সদ্যপুস্করণী থেকে চাল নিয়ে যাওয়ার সময় নগরীর দর্শনা থেকে ২১ বস্তা চালসহ অটো চালককে আটক করে তাজহাট মেট্রো থানা পুলিশ।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, তারা দল থেকে বহিষ্কার। ফরম বিতরণ চলছে, সেখানে হয়ত অজান্তে কেউ ফরম নিতেও পারে, কিন্তু যারা দল থেকে বহিষ্কার, তাদের মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন দেবে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু যারা নির্দোষ, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যাদের ফাঁসানো হয়েছে, প্রশাসনিক তদন্ত করে দেখা হয়েছে, যারা নির্দোষ তাদের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নাই। প্রশাসনিক তদন্ত করে দেখা গেছে যারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

মন্তব্য লিখুন :