হেপাটাইটিস সি আবিষ্কার করে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

০৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:১৪
অনুসন্ধান ডেস্ক

মানবশরীরের জটিল রোগ হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত করা এবং নিরাময়ের কৌশল জানা সম্ভব হয়েছিল যে তিন বিজ্ঞানীর অবদানে তারা পেলেন চিকিৎসার নোবেল পুরস্কার।

সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে মার্কিন বিজ্ঞানী হার্ভি জে অল্টার ও চার্লস রাইস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞনী মাইকেল হগটনের নাম ঘোষণা করে।

কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট বলেছে, তারা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করার পাশাপাশি ওষুধ আবিষ্কার করেছেন, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

হেপাটাইটিসের দুইটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ‘এ’ দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। আর হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। রক্তের মাধ্যমে সৃষ্ট এ হেপাটাইটিস প্রায় সময়ই জটিল রোগ তৈরি করে। এর মধ্য দিয়ে লিভার ক্যানসার বা লিভার সিরোসিস হতে পারে। প্রতি বছর ৭ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস সিতে আক্রান্ত হয়। মৃত্যু হয় ৪ লাখ মানুষের।

এবার নোবেল পুরস্কারের ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন তিন বিজ্ঞানী। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

প্রাণীর কোষ কীভাবে অক্সিজেনের প্রাপ্যতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, সেই রহস্যের কিনারা করে গতবছর চিকিৎসায় নোবেল পান যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম জি কায়েলিন, যুক্তরাজ্যের স্যার পিটার জে র‌্যাটক্লিফ ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেগ এল সেমেনজাভ। 

মঙ্গলবার পদার্থ, বুধবার রসায়নে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার আসবে সাহিত্যের নোবেল ঘোষণা।

এরপর শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

১৯০৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা ক্ষেত্রে ১০৯ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে কোষ কীভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতি অনুভব করে এবং সাড়া দেয়, তা নিয়ে গবেষণা করে নোবেল জিতেছিলেন লন্ডনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্যার পিটার র‌্যাটক্লিফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম ক্যালিন ও জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেগ সেমেন্জা। ২০১৮ সালে নেতিবাচক ইমিউন নিয়ন্ত্রণে বাধাদানের মাধ্যমে ক্যানসার থেরাপি আবিষ্কারের জন্য যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান জেমস পি. অ্যালিসন ও তাসুকু হনজো। আর ২০১৭ সালের বায়োলজিক্যাল ক্লকসের মলিকিউলার মেকানিজমের আবিষ্কারের কারণে নোবেল পুরস্কার জেতেন বিজ্ঞানী জেফরি হল, মাইকেল রোশবাশ ও মাইকেল ইয়াং।

১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল নিজের মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮-তে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত্বাবধান করা এবং নোবেল পুরস্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়।

মন্তব্য লিখুন :